ভেজাল এবং নকল খাদ্যপণ্য নিয়ে লাগাতার অভিযোগ উঠে আসছে। সেই আবহেই রাজস্থান থেকে বড় ঘটনা সামনে এল। সেখানে দুগ্ধ সংস্থা Amul-এর ১.৫ লক্ষ কেজি খাদ্যপণ্য নষ্ট করল খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও, তারিখ বদলে সেগুলি বাজারে সরবরাহ করার কাজ চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে কার্যকর হল ‘জরুরি’ আইন; বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
রাজস্থানের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ ওই বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য় নষ্ট করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রধান সচিব গায়ত্রী রাঠৌর জানিয়েছেন, সরকারি হেল্পলাইন ১৮১-তে ফোন করে অভিযোগ জানান এক ব্যক্তি। সেই মতো পদক্ষেপ করে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। চিফ মেডিক্যাল অফিসার বিশেষ টিম পাঠান, যারা হাতেনাতে অপরাধ ধরে ফেলে।
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, গুদামের মধ্যে বড় বড় কার্টনে বিপুল পরিমাণ Amul-এর খাদ্যসামগ্রী রাখা আছে। তবে দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য নয়, নুডলস, কেচআপ, মেয়োনিজ়, এনার্জি ড্রিঙ্কের মতে নন-ডেয়ারি পণ্য মজুত করে রাখা ছিল ওই গুদামে। গুজরাতের Messrs Kaira District Co-operative Milk Producers Union বা Amul-এরই তৈরি ওই সব খাদ্যপণ্য। সেগুলি সরবরাহ করছিল Messrs Advansys India Private Limited.
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ১২০০০ কার্টন খাদ্যপণ্যের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে ৩০০০ কার্টনে ভর্তি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট থেকে আসল এক্সপায়ারি ডেট মুছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই গুদাম থেকে Thinner, Acetone, অন্যান্য় রাসায়নিক এবং আরও বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়। সেই সব ব্য়বহার করেই এক্সপায়ারি ডেট মুছে ফেলা হয়। নতুন তারিখ লিখে, সেগুলি ফের Amul-এর কার্টনে ভরে বাজারে বিক্রির কাজ চলছিল।
আরও পড়ুনঃ আগুন মধ্যবিত্তদের হেঁসেলে; তুঙ্গে ইন্ডাকশনের চাহিদা
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইউটিউব দেখে খাদ্যপণ্যের প্যাকেট থেকে এক্সপায়ারি ডেট মোছার কৌশল রপ্ত করা হয়। খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এত বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয় যে, গুদাম থেকে সব বের করে নিয়ে যেতেই চার দিন সময় লাগে। ২৭টি ট্রাকে ভরে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করা হয়। ওই সংস্থার কাছ থেকেই যাবতীয় খরচ-খরচা আদায় করে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার টি শুভমঙ্গল জানিয়েছেন, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, ১০-১২ জন কর্মী ওই গুদামে ঢুকে মূল ফটকটি বন্ধ করে দিতেন। সন্ধে পর্যন্ত ভিতরে কাজ চলত। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হতো না। যে সংস্থা এই কাজ করছিল, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। Amul এবং Messrs Advansys, দুই সংস্থাকেই নোটিস দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।









