তখন বঙ্গে চলছে বিধানসভার নির্বাচনের প্রচার। তৃণমূল, বিজেপি কংগ্রেস তখন সকলেরই ভোটের খুব প্রয়োজন। সেই আবহেই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতার নামে একের পর এক অভিযোগের তীর ছুড়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আরজিকর কান্ড থেকে শুরু করে বাংলায় ঘটে যাওয়া একের পর এক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূলকে দোষারোপ করেছিলেন তিনি। তবে ভোল বদলাতে সময় লাগল ঠিক ২ মাস। নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় এবং ভাঙনের আবহেই রঙ বদলে ফের মমতাকে ঘরে ফেরার প্রস্তাব দিলেন খোদ সোনিয়া গান্ধী।
আরও পড়ুনঃ কনডম, খাট, গোটা টেবিল ভর্তি ১০০-২০০ আর ৫০০-র বান্ডিল; স্কুল থেকে উদ্ধার কোটি-কোটি টাকা
রাহুল গান্ধী এপ্রিলে যেখানে মমতাকে ‘বিজেপির সহায়ক’ বলে আক্রমণ করেছিলেন, সেখানে জুনে সেই মমতাকেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এই ভোলবদলকে অনেকে ‘রাজনৈতিক বাস্তববাদ’ বলে ব্যাখ্যা করছেন। অনেকেই বলেছেন তৃণমূলের ৬৪ জন বিধায়কের বিদ্রোহ, দলের ভাঙন এবং বিজেপির চাপের মুখে মমতা শিবিরের দুর্বলতা কংগ্রেসকে নতুন সুযোগ করে দিয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে মমতার সঙ্গে সাম্প্রতিক একান্ত বৈঠক এই জল্পনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। মমতা প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে সময় চেয়েছেন বলে খবর। একই দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তৃণমূলের বর্তমান সংকটে কংগ্রেস একটি ‘বড় সমাধান’ দেখছে।
আরও পড়ুনঃ স্থগিতাদেশ জারি; ১৭ জুন পর্যন্ত বন্ধ উচ্ছেদ অভিযান
তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কংগ্রেসে যোগ দেবে না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমরা কংগ্রেসে মার্জ হচ্ছি না।” এদিকে মমতা শিবির এখনও নীরব রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের সময়। একদিকে দলের ভাঙন রোধ করা, অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনৈতিক শক্তি ফিরে পাওয়া দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে তাঁকে।


