জরুরি বৈঠক ও রাজনৈতিক বার্তা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র লাগাতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পরপরই দিল্লিতে শুরু হল উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা। শনিবার ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একান্তে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করেন। বিজেপি সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আগামী দিনে এই আন্দোলন মোকাবিলায় দল ও সরকারের পরবর্তী রণকৌশল কী হবে, তা নির্ধারণ করতেই শীর্ষ নেতৃত্বের এই জরুরি বৈঠক।
নিরাপত্তা ও আন্দোলন ঘিরে জল্পনা সিজেপি-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিক্ষোভের সূচনা থেকেই বিজেপির একটি অংশের দাবি ছিল, সাধারণ পড়ুয়াদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু দেশবিরোধী শক্তি আন্দোলনকে অন্য দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, সীমানার ওপার থেকে সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালার বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিত্বও এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। মোদি-শাহর বৈঠকে এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিকগুলি গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেবল আন্দোলন মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নেই; চর্চায় উঠে আসছে মন্ত্রিসভার শূন্যস্থান পূরণের প্রসঙ্গও। গত এক মাসের মধ্যে পর পর তিন জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নজর দেওয়ার নির্দেশে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু। তার ঠিক এক মাস আগে রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইস্তফা দেন জর্জ কুরিয়েন। এবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে শিক্ষা মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ফাঁকা হল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ডার্বি জিতে মরসুম শুরু মোহনবাগানের
রাজ্য নেতাদের দিল্লি তলব সূত্রের খবর, প্রশাসনিক এই শূন্যতা মেটাতে দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটাতে পারে বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধেই বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে তলব করা শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডেকে দিল্লিতে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। শীঘ্রই উত্তরপ্রদেশসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নেতাদেরও তলব করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে দিল্লির দরবারে এখন এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হচ্ছে।


