১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই ভারত কার্গিল যুদ্ধে ‘অপারেশন বিজয়’-এর সাফল্য ঘোষণা করে। এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে প্রতি বছর দেশজুড়ে ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ পালিত হয়। এই দিনটি ভারতীয় সেনার বীরত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার দিন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ‘অপারেশন বিজয়’: ১৯৯৯ সালের মে মাসে, নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা কার্গিল, দ্রাস, বাতালিক এবং কাকসার উপত্যকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি উচ্চতায় অবস্থান নেয়। শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এটি ছিল একটি পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ। এই অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে দখলকৃত শৃঙ্গগুলো পুনরুদ্ধারের জন্যই ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন বিজয়’।
আরও পড়ুনঃ প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে বারুইপুর! ‘এনকাউন্টার’-এর পক্ষে এত জনসমর্থন কেন?
অসম লড়াই ও চ্যালেঞ্জ: এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভূপ্রকৃতি। প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায়, তীব্র ঠান্ডা, কম অক্সিজেন এবং দুর্গম খাড়া পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে যুদ্ধ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। অনুপ্রবেশকারীরা আগে থেকেই উঁচু অবস্থানে থাকায় কৌশলগত সুবিধায় ছিল। তা সত্ত্বেও, ভারতীয় জওয়ানরা অসম্ভবকে সম্ভব করে একের পর এক শৃঙ্গ পুনর্দখল করেন।
তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান:
-
স্থলসেনা: তোলোলিং চূড়া, পয়েন্ট ৫১৪০ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টাইগার হিল পুনর্দখল করে স্থলসেনা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
-
বায়ুসেনা (‘অপারেশন সফেদ সাগর’): মিরাজ-২০০০ সহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে নিখুঁত বোমা বর্ষণের মাধ্যমে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করে বায়ুসেনা।
-
নৌসেনা (‘অপারেশন তলোয়ার’): সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করে নৌসেনা প্রমাণ করে যে যুদ্ধ শুধু পাহাড়ি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না।
আরও পড়ুনঃ সাবধান, যা পারছেন তা লিখে ফেলছেন! সচেতন হোন নিজের পরিবারের কথা ভাবুন
বীরত্ব ও আত্মত্যাগ: এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ভারতের ৫২৭ জন বীর জওয়ান শহিদ হন এবং ১,৩৬৩ জন আহত হন। অসামান্য বীরত্বের জন্য ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা (মরণোত্তর), লেফটেন্যান্ট মনোজ কুমার পাণ্ডে (মরণোত্তর), রাইফেলম্যান সঞ্জয় কুমার এবং গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদবকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘পরমবীর চক্র’-এ ভূষিত করা হয়। ক্যাপ্টেন বাত্রার “ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর” বার্তাটি দেশবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।
উপসংহার: ২৬ জুলাই, ১৯৯৯ সালে ভারতীয় সেনা সফলভাবে অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে দেয়। কার্গিল বিজয় দিবস শুধু একটি সামরিক বিজয়ের উদযাপন নয়, এটি ৫২৭ জন শহিদের পবিত্র আত্মত্যাগ এবং তাঁদের পরিবারের ত্যাগের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। কার্গিলের দুর্গম পাহাড় আজও ভারতীয় সেনার শৌর্য ও আত্মমর্যাদার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


