রাজ্য সরকারের ভাতার অভাব নেই, ক্লাবগুলোতে পৌঁছচ্ছে মোটা অঙ্কের অনুদান। কিন্তু খোদ সরকারি অনুমোদিত স্কুলেই আজ ব্রাত্য শিক্ষা। ক্লাসরুম থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিক্ষিকার অভাবে স্কুলের বারান্দায় ঠাঁই হয়েছে শিশুদের। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী ব্লকের নেতাজি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র আজ চরম অব্যবস্থার শিকার। স্কুল পরিকাঠামো বলতে যা বোঝায়, তা এখানে কেবল নামমাত্র। বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে জল্পনা! ভোট বঙ্গে স্কুলে গরমের ছুটি কতদিন পড়বে
মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১১০অথচ অবাক করার মতো বিষয় হল, এই বিশাল সংখ্যক পড়ুয়া সামলানোর জন্য রয়েছেন মাত্র দু’জন শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষিকা শোভা দেবনাথের বয়স ৫৯ বছর এবং অপর শিক্ষিকা সুচরিতা হালদারের বয়স ৫৭। বয়সের ভারে এই দুই শিক্ষিকাই প্রতিদিন লড়ে যাচ্ছেন ১১০টি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়তে | স্কুলের টিউবওয়েলটি দীর্ঘকাল ধরে অকেজো, ফলে তেষ্টা মেটাতে ছোট ছোট শিশুদের প্রাণ হাতে নিয়ে বাসন্তী স্টেট হাইওয়ে পার হতে হয়। পানীয় জলের সন্ধানে প্রতিদিন এই মরণফাঁদ পেরোতে বাধ্য হচ্ছে খুদে পড়ুয়ারা |
স্কুলে ক্লাসরুম থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষিকা নেই। প্রধান শিক্ষিকাকে মাঝেমধ্যেই দফতরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সেই সময়ে অন্য শিক্ষিকা একা হাতে ৩-৪টি ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের বারান্দায় একসঙ্গে ক্লাস নিতে বাধ্য হন। এক পাশে প্রথম শ্রেণি তো অন্য পাশে চতুর্থ— এই জগাখিচুড়ি অবস্থাতেই চলছে পঠনপাঠন। স্কুলের ইলেকট্রিক কানেকশন থাকলেও ফ্যানগুলো অকেজো, শৌচাগারের অবস্থাও শোচনীয়
আরও পড়ুনঃ বাংলার আকাশে রহস্যময় ড্রোন! এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য
প্রধান শিক্ষিকা শোভা দেবনাথ আক্ষেপের সুরে বলেন, “এখানে অত্যন্ত সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। অনেক বাচ্চা খুব মেধাবী, কিন্তু আমাদের ইচ্ছা থাকলেও তাদের উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করতে পারছি না। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিডিও— সবাইকে বারবার জানিয়েও আজ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি।”
যখন রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ারের কথা বারবার শোনা যায়, তখন সেই উন্নয়নের জোয়ারের কয়েক ফোঁটা জলও কি এসে পৌঁছাবে না বাসন্তীর এই নেতাজি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে?







