ডায়মন্ড হারবারের ইতিহাস সামুদ্রিক ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। একসময় ‘হাজিপুর’ নামে পরিচিত এই শহরটির নাম পরিবর্তন করেছিল ব্রিটিশরা, যারা তাদের শাসনকালে একে একটি প্রধান বন্দর হিসেবে ব্যবহার করত। হুগলি নদীর পূর্ব তীরে এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ডায়মন্ড হারবার ছিল সমুদ্রগামী জাহাজগুলোর জন্য একটি নিরাপদ নোঙর এবং বিশ্রামের প্রিয় স্থান।
সদ্য গণনা শুরু হয়েছে। প্রথম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার ২৫৮০ ভোটে এগিয়ে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের পান্নালাল হালদার জেতেন।
ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান শক্তির মূলে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি, যিনি লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় নেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সাল থেকে তিনবার এখান থেকে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই অঞ্চলে দলের প্রভাবকে আরও সুসংহত করেছে।
আরও পড়ুনঃ ভবানীপুর কি নিজের ঘরের মেয়েকে চাইছে না! শুভেন্দুর কাছে পিছিয়ে মমতা
আজকের লড়াই
পান্নালাল হালদার — তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) (প্রধান মুখ ও বিদায়ী বিধায়ক)
দীপক কুমার হালদার — বিজেপি (BJP)
গৌতম ভট্টাচার্য — জাতীয় কংগ্রেস (INC)
সমর নাইয়া — সিপিআই(এম) (CPM)
এছাড়া
বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল — বিএসপি (BSP)
ইয়ামিন লস্কর — এজেইউপি (AJUP)
গৌতম কুমার হালদার — নির্দল (IND)
দীপক হালদার — নির্দল (IND)
হুমায়ুন শাহ — নির্দল (IND)
পান্নালাল হালদার — নির্দল (IND)
নোটা — নোটা (NOTA)
মোদী–শাহের বাংলা অভিযান
কেন্দ্র সরকার এবারের বাংলা ভোটে পুরোদস্তুর ময়দানে নেমেছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই প্রথম কোনো রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA) মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দফায় রাজ্যে সাড়ে তিন লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেছেন। ভোটের আগে থেকে ইডি-সিবিআই তদন্তের চাপ, বিদ্যালয় নিয়োগ দুর্নীতির মামলা, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে বিজেপি রাজ্যে পরিবর্তনের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুনঃ শশী-সহ কলকাতার ২ আসনে এগিয়ে বিজেপি, হাল বেহাল TMC-র
মমতার বাংলা অস্মিতা
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই লড়াইকে বাংলার আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার, এসআইআর বিতর্ক এবং মোদী-শাহের সরাসরি প্রচারে বাংলায় আসাকে রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী-সহ একাধিক কল্যাণ প্রকল্পকে ঢাল করে ভোটে গিয়েছে তৃণমূল।
গত সাতটি প্রধান নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস বিশাল ব্যবধানে জয়ী বা এগিয়ে থাকায়, ২০২৬ সালে শাসক দলকে পরাস্ত করতে বিজেপির সাধারণ প্রচেষ্টার চেয়ে অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হবে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের দুর্বল অবস্থান বিজেপির লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে, কারণ শক্তিশালী জোট থাকলে তৃণমূলের ভোট শেয়ারে ভাগ বসানো সম্ভব হতো। এই পরিস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবার ২০২৬ সালে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে, যেখানে পাল্লা নিশ্চিতভাবেই বিজেপির দিকে ভারী।


