ক্যানিংয়ে স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে বন্ধ হয় সিসিটিভি মনিটর। আর এই আবহে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল সেখানে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যানিং মহকুমার ৪টি বিধানসভা কেন্দ্র গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং পশ্চিম ও ক্যানিং পূর্বের ইভিএমগুলি রাখা হয়েছে বঙ্কিম সর্দার কলেজের স্ট্রংরুমে। ৩০ এপ্রিল প্রায় রাত ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা কলেজ চত্বর।
আরও পড়ুনঃ ‘ভুয়ো খবর ছড়ানোর আগে…’, স্ট্রংরুম কাণ্ডে আগে থেকেই সবটা জানা ছিল তৃণমূলের
সেই সময় স্ট্রংরুমের দু’টি সিসিটিভি মনিটরের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়ে গোসাবার বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর বলেন, ‘ওখানে বারবার ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরেশরাম (ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক) দাস ঢুকল। তারপরই লাইট অফ হয়ে গেল। বাইরে আমাদের প্রতিনিধি যাঁরা ছিল তারা মনিটরে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। কমিশন যেন এটা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’ এদিকে পালটা আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস বলেন, ‘আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম কারেন্ট চলে গেল। দীর্ঘ ২০ মিনিট পর জেনারেটর চালু হয়। ২০ মিনিট পুরো অন্ধকার ছিল। সিসিটিভি-ও অফ ছিল, ঝাপসা ছিল। আমরা খুবই ভয় পাচ্ছি। লোডশেডিং করে কোনও চক্রান্ত যেন না করা হয় তা দেখতে হবে। কমিশনের আধিকারিকদের তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে ইভিএম বদলের অভিযোগ তুলে বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় গতরাতে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধায় তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে স্ট্রংরুমের পাহারায় বসেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা ‘পাহারা’ দিয়ে তিনি বেরিয়ে এসে ফের নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন। তবে তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, গতকাল একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তৃণমূল অভিযোগ করে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে বিজেপি স্ট্রংরুমের মধ্যে ব্যালট বাক্স খুলছে। সেখানে ভোট জালিয়াতি করা হচ্ছে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, ‘নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর আসছে। অভিযোগ উঠছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলার বেআইনি চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ।’ এদিকে পাহারা দিয়ে বেরিয়ে মমতা আবার পালটা অভিযোগ করেছিলেন, টিভিতে নেতাজি ইন্ডোরের ‘ঘটনা’ দেখেন। তা দেখেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে আসেন।
আরও পড়ুনঃ গণতন্ত্র না গেম থিওরি? ‘স্ট্রং রুম’ আতঙ্কে তৃণমূলের সাইকোলজিকাল ব্রেকডাউন!
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের দাবিকে উড়িয়ে নির্বাচন কমিশন বলে, ‘ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটা বিধানসভার স্ট্রংরুম রয়েছে। সমস্ত প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্ট, সাধারণ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে স্ট্রংরুম সিল করা হয়েছে। যে ৭টি স্ট্রংরুমে ইভিএম রয়েছে, সেগুলি এখনও সিল রয়েছে এবং সিএপিএফ জওয়ানরা তার নিরাপত্তায় নিযুক্ত আছেন। সেই চত্বরেই আরও একটি স্ট্রংরুম আছে যেখানে ডিইও পোস্টাল ব্যালট রেখেছেন। ডিইও সকল পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসারদের জানয় যে ৩০ এপ্রিল বিকেল চারটে থেকে সেই পোস্টাল ব্যালটগুলিকে কেন্দ্র অনুযায়ী আলাদা করা হবে। রিটার্নিং অফিসারও সেই ইমেল করেছিল সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে। সেই পোস্টাল ব্যালট পৃথক করার কাজ চলছিল স্ট্রংরুমের বারান্দায়। স্ট্রংরুমের যেখানে ইভিএম রাখা আছে, সেগুলি সিল করাই আছে। এই আবহে প্রার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, ভুয়ো খবর ছড়ানোর আগে ভালো করে নিয়ম জেনে নিন।’


