চন্দন দাস, কলকাতাঃ
বাঙালীদের জীবনের সবচেয়ে বড় রসিকতা l পশ্চিমবঙ্গসহ আরও দুই তিনটে রাজ্য সরকার ছুটি দেয় l কেন্দ্র দেয় না l অধিকাংশ রাজ্য দেয় না l জানিনা ১৯৬৭ র আগে দেয়া হত নাকি l
আরও পড়ুনঃ সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই কর্ম বিভাজন; ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতায় “মে দিবস”
কিন্তু এর গুরুত্ব কি?
৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে এক আন্দোলন আমেরিকায় l আজও ছুটি দেয় পশ্চিমবঙ্গ l মমতা ব্যানার্জীও কিছু মাকু ভোট পাওয়ার আশায় এই ছুটি দেন l কিন্তু এখানে কি মানা হয়?
যাদবপুর, টালিগঞ্জ, দমদম যেখানে অধিকাংশ প্রাক্তন সরকারি শ্রমিক ইউনিয়ন করা লোকজন থাকে সেখানে যেকোনো একটা বাড়ি গিয়ে দেখুন পাহারাদারদের কত মাইনে দেয় l ২৪ ঘণ্টা কাজ এবং সরকারি হারের ঠিক আধা মাইনে l ১০০ দিনের কাজ শুরু হওয়ার আগে এই পাহারাদারদের ঘরে একটা ফ্যান পর্যন্ত দিত না কমরেডরা l না বাম ও ডান সংবাদপত্রগুলি এই নিয়ে কোন দিন এক কলম লিখেছে l
অধিকাংশ দোকানে যেখানে লেবার আইন প্রযোজ্য না, সেখানে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা কাজ l কোন ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৭ দিন কাজ l এদের মাইনে গড়ে সরকারি হারের ৮০% l কিন্তু ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা দিনে ডিউটি l
বেসরকারি বাসের ড্রাইভার, কন্ডাকটর এদের আয় গত ১৪ বছরে আধা হয়ে গেছে (টাকার দাম অনুযায়ী), কারণ সরকার ভাড়া বাড়াতে দিচ্ছে না l
এবার আসি মার্কেটিং বা অফিস জব l মুম্বাই দিল্লি ছেড়ে দিলাম l সেকেন্ড টায়ার সিটি অর্থাৎ ইনডোর, চন্ডিগড়, কানপুরের ৪০% গড়ে l টার্গেট বা অফিস টাইম অনেক বেশী l
আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূল বিধায়ক ঢুকলেন, তারপরই বঙ্কিম সর্দার কলেজের স্ট্রংরুমে বন্ধ হয়ে গেল আলো’
বেসরকারি স্কুল শিক্ষক l যেকোনো সেকেন্ড টায়ার সিটির ৩০% l চাকরির কোন গ্যারান্টি নেই l সঙ্গে প্রচুর ক্লারিক্যাল কাজ l দিনে ৭ থেকে ৮ টা ক্লাস l
বেসরকারি কলেজ l ঠাসা ক্লাস l চাকরি স্থায়ী নয় l প্রচুর ক্লারিক্যাল কাজ l
এর পরেও ঘটা করে আমাদের রাজ্যে এই মে দিবস উৎসব চলে l বলা হয় সারা পৃথিবীতে নাকি আজ ছুটি l বাঙালীর জীবনের সবচেয়ে বড় মিথ্যা এবং রসিকতা এই দিন l জনপ্রতি আয়ে অর্থাৎ জিডিপিতে ভারতের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গ l মানুষ কাশ্মীরে আপেল কুড়োতে গিয়ে বা মিজোরামে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দেয়, একটাই কারণে l আমাদের রাজ্যে শ্রমিক আইন মানা হয় না l তবুও আমরা পালন করবো l এই দিন ভালো ভালো রচনা লিখবে বিভিন্ন সাংবাদিক l ISI, IIMC, কলকাতা, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির অর্থনীতির অধ্যাপকদের জিজ্ঞাসা করুন l উত্তর পাবেন ট্রেড ইউনিয়ন তৈরি করতে হবে l যদি ট্রেড ইউনিয়নই সমাধান হয়, তবে আপনারা কেন মাইনে নিচ্ছেন?


