তেল আমদানিতে আশ্চর্য ঘটনার সম্মুখীন ভারত। রাশিয়ান তেলের একটি ট্যাঙ্কার, যা চিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল, মাঝপথে ইউ-টার্ন নিয়ে এখন ভারতের দিকে ছুটছে। ‘আকোয়া টাইটান’ নামের এই আফ্রাম্যাক্স জাহাজটি জানুয়ারির শেষের দিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে উরালস ক্রুড তেল লোড করে চীনের রিঝাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছে মিড-মার্চে হঠাৎ করে গতিপথ বদলে ফেলে এবং এখন নিউ ম্যাঙ্গালোরে ২১ মার্চ পৌঁছানোর কথা।
আরও পড়ুনঃ মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! ইরানের পাশে দাঁড়াল ভারত
এই একটি জাহাজের গল্প নয়, বরং বিশ্ব তেল বাজারে এক বড় শিফটের স্পষ্ট লক্ষণ।এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলতে টাকা যুদ্ধ , বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা, যার ফলে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গালফ অঞ্চল থেকে আসা তেলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা একটি অস্থায়ী ওয়েভার দিয়েছে, যার ফলে ভারত রাশিয়ান ক্রুড কেনার সুযোগ পেয়েছে যা আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিল ছিল।
এই ওয়েভারের পর ভারতীয় রিফাইনারিরা দ্রুততার সঙ্গে অ্যাকশনে নেমেছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান ক্রুড কেনা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় কোম্পানিগুলো স্পট মার্কেট থেকে উপলব্ধ কার্গো কিনে নিয়েছে, এমনকি প্রিমিয়াম দিয়েও যা ব্রেন্টের চেয়ে ২ থেকে ৮ ডলার বেশি।এই কেনাকাটার প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, চীনের দিকে যাওয়া অন্তত সাতটি ট্যাঙ্কার মাঝপথে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতের দিকে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার আকাশে রহস্যময় ড্রোন! এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য
ভর্তেক্সা লিমিটেডের ডেটা অনুসারে, এই রিরুটিংয়ের ঘটনা ঘটছে দ্রুত। আকোয়া টাইটান ছাড়াও অন্যান্য জাহাজ, যেমন সুয়েজম্যাক্স জুজু এন, চিনের পরিবর্তে ভারতীয় বন্দরের দিকে যাচ্ছে। রাশিয়া ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও গত কয়েক মাসে চিনের দিকে রাশিয়ান তেলের প্রবাহ বেড়েছিল, কিন্তু বর্তমান সংকটে ভারতের চাহিদা আবার বেড়ে গেছে। রাশিয়া এখন ভারতকে আরও তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত, এমনকি হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি মোকাবিলায়।
ভারতের জন্য এই পরিবর্তন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি ক্রুড আমদানি করে, এবং গালফ থেকে আসা অংশ ব্যাহত হলে অর্থনীতিতে চাপ পড়ে। রাশিয়ান উরালস ক্রুড সস্তা হওয়ায় রিফাইনারিগুলোর জন্য লাভজনক। এছাড়া, এই কেনাকাটা ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি বাড়ায় এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। অন্যদিকে, চিনের জন্য এটি একটা ধাক্কা কারণ তারা রাশিয়ান তেলের বড় ক্রেতা হলেও, ভারতের আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কিছু কার্গো হারাচ্ছে।







