Wednesday, 25 March, 2026
25 March
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাBasanti Puja 2026: বসন্তকালে দেবীর আরাধনা; বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী

Basanti Puja 2026: বসন্তকালে দেবীর আরাধনা; বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী

তিনি মঙ্গলময়ী, বলপ্রদায়িনী, অভয়াদাত্রী, অশুভ শক্তি বিনাশিনী জগন্মাতা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষাঃ
চতুর্ভিভুজৈঃ শঙ্খং চক্র ধনু
শরাংশ্চ দধিতি নেত্রৈঃ স্থিভিঃশোভিতা।
মহামায়া সনাতনী, শক্তিরূপা গুণময়ী। তিনি এক, তবু প্রকাশ ভিন্ন।
দেবী নারায়ণী অথবা ব্রাহ্মণী। কখনও মহেশ্বরী রূপে প্রকাশমানা। কখনও-বা নির্মল রূপধারিণী। কখনও মহাবজ্ররূপিণী ঐন্দ্রি, উগ্র শিব দ্যুতিনৃমুণ্ডমালিনী তিনি আবার তবোময়ি নিয়তি—
এই সর্ব প্রকাশমানা মহা শক্তি পরমা প্রকৃতির আবির্ভাবে সপ্তলোক তাই আনন্দমগ্ন…
দেবী দুর্গার নানা রূপ। কখনও তিনি মহাশক্তি, মহামায়া। মাতৃরূপী শক্তিরূপী বিপদতারিণী, স্নেহময়ী জননী। কখনও তিনি বসন্তে বা চৈত্রে পু্জিতা হন কখনও-বা শরতে। বিভিন্ন রূপে তিনি মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন।
সব রূপেই দেবী মহাশক্তির আধার। প্রতিটি রূপেই দেবী মাতৃরূপা, কল্যাণময়ী, অশুভ শক্তি বিনাশিনী। তাঁর সহস্র কোটি রূপ। সেই রূপের মধ্যে কিছু রূপ প্রকট ও কিছু প্রচ্ছন্ন।
তাই শুধুমাত্র শরৎকালেই নয়, বসন্তেও দেবী পূজিতা হন। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে উদযাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বাসন্তী দুর্গাপুজো।
বসন্তকালে দেবীর উপাসনা করা হয় বলেই নাম বাসন্তী।
পুরাণ অনুযায়ী, রামচন্দ্রের শরৎকালে অকালবোধনের আগেই দেবী দুর্গা পূজিতা হতেন এই বসন্তেই।
শরৎকালের শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধনের যেমন পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে তেমনি এই বাসন্তী পুজোরও এক বিশেষ পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। মার্কেণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত শ্রীশ্রী চণ্ডীতেও বাসন্তী পুজোর উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রাত পোহালেই মহাসপ্তমী, বাসন্তী পুজো; দেবীর বাহন পালকি মোটেও শুভ লক্ষণ নয়

পৌরাণিক কাহিনি
সমাধি বৈশ্যর সঙ্গে মিলে চন্দ্রবংশীয় রাজা সুরথ বসন্তকালের চৈত্র মাসে, শুক্লপক্ষে, ঋষি মেধসের আশ্রমে প্রথমবার দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। রাজা সুরথ ছিলেন একজন সুশাসক। যোদ্ধা হিসাবেও তাঁর যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল। শোনা যায় তাঁকে নাকি কখনওই যুদ্ধে পরাজিত করা যায়নি এমনই পরাক্রম ছিল তাঁর।
তবে একটা কথা আছে না,“চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়” সে রকমই রাজা সুরথের রাজ্যে হঠাৎ যবন আক্রমণ করে। আকস্মিক এই আক্রমণের জন্য কোনওভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না রাজা সুরথ। শুধু তাই নয়, তাঁর সভাসদরাও ষড়যন্ত্র ও বিরুদ্ধাচারণ শুরু করে। অতি-পরিচিতজনদের এমন বিশ্বাসঘাতকতায় রাজা মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েন এবং তিনি রাজ্যপাট ছেড়ে মনের দুঃখে বনে বনবাসী হন। এই সময়ে মেধস ঋষির আশ্রমে এসে তিনি উপস্থিত হন। সেখানে দেখা হয় আরেক বণিক রাজা সমাধির সঙ্গে। আশ্চর্যজনক ভাবে দু’জনের মধ্যে মিল হল রাজা সমাধিও প্রতারণার শিকার। রাজ্যহারা রাজা সুরথ ও স্বজনপ্রতারিত রাজা সমাধি দু’জনের মনেই একই কষ্ট। কিন্তু চিন্তাধারা সৎ।
দু’জনেই নিজের নিজের যন্ত্রণার কথা খুলে বললেন মেধস ঋষিকে।
সব শুনে ঋষি বলেন, জীবনে যা কিছু ঘটে সবই মহামায়ার ইচ্ছা। ঋষির মুখেই প্রথম দু’জনে অর্থাৎ রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ্যদেবী মহামায়ার কথা শোনেন। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন।
ঋষির উপদেশে রাজা সুরথ কঠিন তপস্যা শুরু করেন।
রাজা সুরথ দুর্গার মূর্তি তৈরি করে প্রথম পুজো করেন। সেটিও ছিল এক বসন্তকাল। কথিত আছে, এই পুজোর পর মহামায়ার আশীর্বাদ পেয়ে সুরথ রাজার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। অলৌকিকভাবে নিজের সমস্ত হারানো ধন-সম্পত্তি ফেরত পান এবং রাজ্যে ফিরে আসেন। দেবী দুর্গার প্রথম পুজারি হিসেবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে।

ঋতুভেদ ইতিহাস
এই ঘটনার পর থেকে প্রাচীন রাজা-রাজড়াদের মধ্যে একটা বিশ্বাস প্রচলিত হয় যে, মহামায়ার আশীর্বাদ না পেলে যুদ্ধের জয় নিশ্চিত নয়। সেই সময় থেকেই রাজবাড়ি এবং বেশ কিছু জমিদার বাড়িতে বসন্তকালে বাসন্তী তথা অন্নপূর্ণা পুজো করার রেওয়াজ শুরু হয়।
“বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী
দূর প্রান্তে বনবনান্তে
শ্যাম পুনরে, আম্রচ্ছায়ে
সরোবর তীরে নদী নীড়ে
নীল আকাশে মলয় বাতাসে
ব্যাপিল অনন্ত তব মাধুরী”
বসন্তের মনোরম আবহাওয়াই দুর্গা পুজোর জন্য ছিল সময়োচিত।
ভাদুড়িয়া রাজশাহির সামন্ত রাজা জগৎনারায়ণ প্রায় নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই বাসন্তী দুর্গাপুজো আকবরের আমলে করেছিলেন।
সাহিত্যিক রাধারমণ রায়ের মতে, আগে এদেশে বসন্তকালে হত দুর্গাপুজো। আর শরৎকালই হত নবপত্রিকা পুজো। এই নবপত্রিকাই কালক্রমে চার পুত্র-কন্যা-সহ দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী মূর্তিতে রূপান্তরিত। আকবরের রাজত্বকালে কংসনারায়ণ মূর্তি গড়ে শারদীয়া দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা করেছিলেন।
জগৎনারায়ণের বাসন্তী পুজোর দেখাদেখি কংসনারায়ণ আয়োজন করেছিলেন আশ্বিনের শারদীয়া দুর্গাপুজো, যা আজ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বা মহোৎসব। পাশাপাশি ভাদুরিয়ার রাজা জগৎনারায়ণের বাসন্তী পুজো কিছুটা যেন ম্লান।
আজও অনেক বাড়িতে এই পুজো হলেও দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি বাসন্তীপুজো।
পূর্ববঙ্গের সামন্ত রাজা দু’জনেই। অথচ একজনের পুজো পরবর্তী সময়ে পরিণত হয়েছে বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসবে। আর আরেকজনের পৃষ্ঠপোষিত উৎসব সেভাবে জনগণের হয়ে উঠল না। এর পেছনে একটা কারণ বলা যেতে পারে, তা হল—
মুঘল আমলে রাজস্ব দেওয়ার যে নতুন নিয়ম বলবৎ হয়েছিল তা হল ভাদ্র মাসের নির্দিষ্ট দিনে নবাবকে (দিল্লিতে মোগল সম্রাটের কাছে) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের রাজস্ব পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়। স্থানীয় রাজা বা জমিদারদের তার আগেই নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা জমা করে দিতে হত। এই নির্দিষ্ট খাজনা বাদ দিয়ে রাজস্বের বাকি অংশ ছিল স্থানীয় রাজা বা জমিদারদের প্রাপ্য। তাই সঞ্চিত রাজস্বের অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক দিক থেকে শরতের এই সময়টি ছিল বসন্তের তুলনায় উৎসব উদযাপনের উপযুক্ত সময়।
তাই হিন্দু রাজা জমিদারদের একটা বড় অংশ নিজেদের ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শারদীয়া দুর্গাপুজোর প্রতি সমর্থন দেওয়া শুরু করেন।
বাসন্তী পুজোর তুলনায় শারদীয়া দুর্গাপুজো অনেক বেশি মান্যতা পেল।
পরিশেষে, পলাশির যুদ্ধ এবং ইংরেজ শাসন কায়েম হওয়ার ফলে কলকাতাকে উপলক্ষ করে নতুন কেন্দ্র তৈরি হয় যার ফলে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের শারদীয়া দুর্গাপুজো একমাত্রিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
পাশাপাশি ইংরেজ শাসনে উদ্ভূত নতুন বাবু সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থান, প্রভাব ও বৈভব প্রদর্শনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে বাৎসরিক শারদীয়া দুর্গোৎসব।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, মুনশি নবকৃষ্ণ দেব যে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন পলাশি বিজয়ের উদযাপনের কারণ হিসাবে, সেখানে স্বয়ং ক্লাইভ উপস্থিত ছিলেন।
শোনা যায়, এক অনুগত রাজাকে উৎসাহ দিতে তাঁর বাড়ির পুজোর জন্য লর্ড ক্লাইভ দশ হাজার টাকার সন্দেশ, এক হাজার টাকার প্রণামী ও একশো আটটা পদ্মফুল দেবীর পদপাদ্মে নিবেদনের জন্য নিয়ে এসেছিল।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বদন্যতায় রাতারাতি বাবু হয়ে ওঠা অন্যান্য দেশীয় ব্যক্তিবর্গের বাড়িতেও দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ রাজপুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শারদীয়া দুর্গাপুজোকে এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় ভূষিত করে যার ফলে অন্যান্য উৎসব হয়ে পড়ে প্রান্তিক, আঞ্চলিক উৎসব।
সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের জন্য সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা হয়ে থাকে। বাসন্তী পুজো বা অন্য কোনও উৎসবে সেটা থাকত না।
শাস্ত্রকারদের মতানুযায়ী যে সময়টা উত্তরায়ণ অর্থাৎ দেবতারা জেগে থাকেন সেই সময়ই বাসন্তী পুজোর নির্ঘণ্ট। এছাড়া শীতের পরে বসন্তের মনোরম আবহাওয়াতেই এই পুজোর ব্যবস্থাকে অনুকূল মনে হয়েছিল।
কেউ কেউ বাসন্তী পুজোর অন্য কারণের ব্যাখ্যাও দিয়ে থাকেন।
বসন্তের শেষে গ্রীষ্মের শুরুর এই সময়টায় সে-সময়ে বসন্ত রোগের খুব প্রাদুর্ভাব ছিল।
টিকাহীন চিকিৎসাহীন সেই অতীতকালে ভয়াবহ বসন্ত রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য দেবীর আরাধনা করে তাঁর কৃপা প্রার্থনা করার জন্যই বসন্তকালে বাসন্তী পুজোর সূচনা হয়েছিল।
সেন যুগে যে-বাসন্তী-দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল সেখানে আরও একটা ব্যাপার ঘটেছিল। রামের জন্মতিথিকে এই পুজোর নবমীর সঙ্গে যুক্ত করে হয় রামনবমী।
সেন যুগে পাল আমলের বৌদ্ধ আধিপত্যের স্থানে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণ্য ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠা করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার ফলস্বরূপ উত্তর ভারতের বৈদিক সংস্কৃতির সঙ্গে মাতৃতান্ত্রিক আরাধনাকে সংযুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলে বাসন্তী দুর্গা নবমীর সঙ্গে একাত্মতা তৈরি হয় রামের জন্মতিথির।
এই একই কারণে শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধনে বিষয়টিও যুক্ত হয় আমাদের শরৎকালের দুর্গাপুজোর সঙ্গে।
বাঙালি কবি কৃত্তিবাসের রামায়ণে রামের দ্বারা দেবীকে আরাধনা করার বিষয়টি বর্ণিত রয়েছে।
শরৎকালের অকালবোধনে কিন্তু আবহাওয়া সর্বদা অনুকূল থাকে না। এছাড়া সময়টা দক্ষিণায়ন দেবতাদের ঘুমের সময়। সেই কারণেই অকালবোধন।

আরও পড়ুনঃ ভক্তিভরে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনায় দূর হয় অভাব-অনটন, সংসারে আসে সমৃদ্ধি!

অকালবোধন
কালিকাপুরাণ অনুযায়ী রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দেবী দুর্গার পুজো করা হয়েছিল। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন তাই এই সময়টি তাঁদের পুজোর যথাযথ সময় নয়। অকালে-পুজো বলে তাই এই পুজোর নাম হয় অকালবোধন। পুরাণ অনুসারে, রামকে সাহায্য করার জন্য ব্রহ্মা দুর্গার বোধন ও পুজোর বিধান দিয়েছিলেন।
কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে রাবণ ছিলেন শিবভক্ত। শিব তাঁকে রক্ষা করতেন। তাই ব্রহ্মা রামকে পরামর্শ দেন শিবের স্ত্রী দুর্গার পুজো করে তাঁকে তুষ্ট করতে পারলেই রাবণবধের কাজ সহজ হবে।
ব্রহ্মার পরামর্শে রাম শরৎকালে দুর্গার বোধন, চণ্ডীপাঠ ও মহাপুজোর আয়োজন করেন, আশ্বিন মাসের শুক্লা ষষ্ঠীর দিন শ্রীরাম কল্পারম্ভ করেন।
শ্রীরামচন্দ্র রাবণকে পরাস্ত করে সীতা উদ্ধারকালে অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। সেই সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন এবং দেবতাদের নিদ্রার সময়।
এই অকালে দেবীর ঘুম ভাঙানো হল বলে এটি অকালবোধন হিসেবে এত খ্যাত হল। শরৎ নবরাত্রিতে দুর্গাপুজো হয় আর বসন্তের নবরাত্রিতে হয় বাসন্তীপুজো।

দেবী অন্নপূর্ণা পৌরাণিক ইতিহাস
বাসন্তীপুজোর (Basanti Puja) অষ্টমীর দিনে মা দুর্গার আরেক রূপে দেবীবন্দনা করা হয়। তিনি হলেন মা অন্নপূর্ণা। দেবী অন্নপূর্ণাকে শাস্ত্রে শাকম্ভরী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়ে থাকে। এই দেবী শাকম্ভরী নবপত্রিকা হিসাবে দুর্গাপুজোর সময় পূজিতা হন।
অন্ন শব্দের অর্থ হল ধান আর পূর্ণ কথার অর্থ হল ভর্তি। অর্থাৎ অন্নদাত্রী। তিনি শক্তির অপরূপ পুরাণে দেবীকে কোথাও দ্বিভুজা কোথাও বা চতুর্ভুজা বলা হয়েছে। ত্রিনয়না তিনি। গাত্রবর্ণ লাল।
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণার পুজো করলে ঘরে অন্নাভাব থাকে না। কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার সুপ্রাচীন মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরে অন্নপূর্ণা পুজো ও অন্নকূট উৎসব বিখ্যাত।
রায়গুণাকার ভারতচন্দ্র দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন। সেখানে দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। দেবী অন্নপূর্ণাকে ঘিরে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি।
পুরাণ-মতে দেবী পার্বতী ও মহাদেব সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিলেন কিছুদিন পরে আর্থিক অনটনের জেরে শুরু হয় দাম্পত্যকলহ। ফলস্বরূপ এই পার্বতী কৈলাস ছেড়ে চলে আসেন শুরু হয় মহামারী, খাদ্যসংকট। ভক্তেরা আকুল হয়ে শিবকে ডাকতে থাকেন তাঁদের এই অবস্থার প্রতিকারের জন্য। ভক্তদের আকুলতায় ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মহাদেব বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু দেবীর মায়ায় তিনি কোথাও ভিক্ষা পান না। এর মাঝেই শোনা গেল, কাশীতে এক নারী সবাইকে অন্নদান করছেন। মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন এবং সেই নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি অন্নদাত্রীকে চিনতে পারেন। কালবিলম্ব না করে তিনি ভিক্ষা চান দেবীর কাছে।
সেই ভিক্ষা গ্রহণ করে মহামারী ও খাদ্যকষ্ট থেকে ভক্তকুলকে রক্ষা করেন। চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে কাশীতে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী অন্নপূর্ণা।
পরিশেষে একটা কথা বলা যায় যে, দেবী দুর্গা, দেবী অন্নপূর্ণা, নবপত্রিকা বা বাসন্তী— যে রূপেই তিনি পূজিতা হোন না কেন তিনি মঙ্গলময়ী, বলপ্রদায়িনী, অভয়াদাত্রী, অশুভ শক্তি বিনাশিনী জগন্মাতা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন