বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতিমধ্যে শপথগ্রহণ করে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এখনও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় বদল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে এর আগেই অস্বীকার করেছিলেন তিনি। অবশ্য তাঁর সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। গত ৭ মে সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল। এতকিছুর পরেও তিনি নিজেকে ‘প্রাক্তন’ বলতে নারাজ। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে (দুপুর সাড়ে ১২টা) তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল – পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি এই কিছুক্ষণ আগে পরিচয় বদল করেন। এখন সেখানে লেখা – ‘মুখ্যমন্ত্রী (পঞ্চদশ, ষোড়শ, সপ্তদশ বিধানসভা)’। উল্লেখ্য, এই ভোটের পর অষ্টাদশ বিধানসভা গঠিত হয়েছে। তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিজেপির ভোট লুট এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদস্বরূপ পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ভোটারদের মমতা বিশ্বাস করাতে চাইছেন, তাঁর সঙ্গে সত্যিই অবিচার হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অভিষেকের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগ!
এদিকে শুভেন্দুর শপথগ্রহণের দিনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির রাস্তাজুড়ে শুধুই শূন্যতা। তবে তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির বাইরে উপস্থিত হন কিছু তৃণমূল কর্মী। আবার ব্রিগেডগামী বিজেপি সমর্থকদের মিছিল থেকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ওঠে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। উল্লেখ্য, এর আগে সংবিধানের ১৭২ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এমনিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ মে। সেদিনই বিধানসভা ভেঙে দেন তিনি। বিজেপির নয়া সরকার শপথগ্রহণ করে, আজ ২৫ বৈশাখ (৯ মে)। ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ অপশাসনের অবসান, শুরু সোনার বাংলার পথচলা
প্রসঙ্গত, শুধু যে দল হেরেছে, এমনটা নয়, তিনি নিজেও নিজের আসনে হেরেছেন। তা সত্ত্বেও ভোটের ফল প্রকাশের পরে কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক। তবে এতকিছু না করে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেন। এর ফলে না চাইতেও প্রাক্তন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য নবম মুখ্যমন্ত্রীও পেয়ে গিয়েছে।


