Friday, 10 April, 2026
10 April
Homeদক্ষিণবঙ্গHumayun Kabir: রাজনীতির অন্ধগলিতে বিতর্কে ‘খাবি খাচ্ছেন’ অপরিণামদর্শিতা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার হুমায়ুন!

Humayun Kabir: রাজনীতির অন্ধগলিতে বিতর্কে ‘খাবি খাচ্ছেন’ অপরিণামদর্শিতা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার হুমায়ুন!

বারবার তাঁকে নিয়ে হাসাহাসিও হয়েছে। আসলে রাজনীতির অন্ধগলিতে ইদানিং খানিক খাবি খাচ্ছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ফের বিতর্কে হুমায়ুন কবীর। এবার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের ভিডিও ভাইরাল। ওই ভাইরাল ভিডিও-য় হুমায়ুনকে নিজের মুখেই বলতে শোনা গিয়েছে, যে কোনও মূল্যে তিনি মমতাকে হারাতে চান। সেজন্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।

অবশ্য বিতর্ক আর হুমায়ুন সমার্থক। সেই বরাবরই বিতর্কিত কথাবার্তা বলেন তিনি। সেই ভাগীরথীর বুকে ৩০ শতাংশ হিন্দুকে ভাসিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বাবরির নামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা। আবার মসজিদের শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে ক্কারী বিতর্ক, দেহরক্ষী আনা নিয়ে বিতর্ক এমনকী তাঁর হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছে।

সদ্য প্রকাশ্যে আসা ভিডিও-টি কোনও এক বিজেপি নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের কথোপকথনের। ওই কথোপকথনে হুমায়ুন বলছেন, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। আমার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ বড় ধাক্কা হুমায়ুন কবীরের; ভোটের আগেই জোট ভাঙল AIMIM

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান বলেন থাকেন, “প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই আমাকে বলা হয়, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা বলতে। মোহন যাদবজির সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে।” হুমায়ুন ইঙ্গিত দিয়েছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।

হুমায়ুন বলেন, “আমি অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন পাব। মোহন যাদব-শুভেন্দু অধিকারীরা আমাকে বলেছেন, আমাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে দেবে।” কিন্তু তাঁর পক্ষে ৭০-৮০ আসন পাওয়া সম্ভব কি? জবাবে হুমায়ুন বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আমি মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা ছেপে ফেলেছি। সেটার জন্য আমার কিছু টাকার দরকার। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা দরকার।”

ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই হুমায়ুনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসরা একযোগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম রীতিমতো চড়া সুরে বলেন, “টাকার বিনিময়ে মুসলমানদের ভাবাবেগ নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলাটা অন্যায়। এটা পাপ। এর পরে ওই কুলাঙ্গার, কীট হুমায়ুনকে একটা ভোটও দেওয়া উচিত নয়।”

যদিও পালটা হুমায়ুনের সাফাই, যে ভিডিও দেখানো হচ্ছে সেটা ভুয়ো। বহিষ্কৃত বিধায়কের অভিযোগ, “ইজরায়েল থেকে মেশিন এনে আমার ফোন ট্যাপ করছে। হোয়াটসঅ্যাপ কলও রেকর্ড করছে।” তাঁর পালটা হুঁশিয়ারি, “ওই ভিডিও আমার প্রমাণ করতে পারলে সব প্রার্থীদের নিয়ে বসে যাব। নাহলে দু’হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করব।”

কিন্তু ওই সাফাইয়ে আদৌ কাজ হবে কী? হুমায়ুন আর বিতর্ক তো ইদানিং সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূল ছেড়ে বাবরি মসজিদ শিলান্যাস এবং রাজনৈতিক দল তৈরি, এই পর্বে বহুবার মুখ পুড়েছে হুমায়ুনের। সাফাইও দিতে হয়েছে বহুবার।

গত বছর ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় তথাকথিত ‘বাবরি’ মসজিদের শিলান্যাসের আগে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, তাঁর মসজিদ শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে দেশবিদেশ থেকে বহু অতিথি আসবেন। কর্মসূচিতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে আসছেন দুই ‘ক্বারী’ অর্থাৎ মক্কার ইমাম। সেই মতো দুই ইমামকে কেন্দ্রস্থলে রেখে পুরো কর্মসূচি হয়। পরে জানা যায় ওই দুই ইমাম বা ক্কারী আসলে বাংলারই বাসিন্দা। একজন মুর্শিদাবাদেরই দৌলতাবাদের বাসিন্দা সুফিয়া। দ্বিতীয় জন, শেখ আবদুল্লা পূর্ব মেদিনীপুরের যদিও হুমায়ুনের দাবি, তাঁকে অপদস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি সৌদির ইমাম আনার জন্যই এক মধ্যস্থতাকারীকে দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁর আসা যাওয়া থাকার খরচও ওই মধ্যস্থতাকারীকে দেন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন মক্কা থেকে দু’জন ক্কারীকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন সৌদি থেকে কোনও ক্কারী আসেননি। ওই দুজন রাজ্যেরই।

আরও পড়ুনঃ ছাব্বিশের ভোটে উধাও প্রার্থী! TMC-র সুজাতা কোথায়?

ক্কারীর পর দেহরক্ষী বিতর্ক। হুমায়ুন শুরুতে দাবি করেন, হায়দরাবাদ থেকে ৮ জন বাউন্সার এসেছেন তাঁর জন্য। কিন্তু পরে জানা যায় হায়দারবাদ থেকে যে ৮ জন বাউন্সার এসেছে বলে জানানো হয়েছিল, আদতে নাকি তারা কলকাতার। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন আজপ নেতা। তাঁর দাবি ছিল, ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি নাকি ফের প্রতারিত হয়েছেন। পরে অবশ্য হুমায়ুনকে কেন্দ্র সরকার নিরাপত্তা দেন।

১০ লক্ষ লোক নিয়ে ব্রিগেডে সভার দাবি! হুমায়ুন দাবি করেছিলেন তিনি নিজের দলের নাম প্রকাশ্যে আনবেন ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষকে নিয়ে জনসভা করে। কিন্তু পরে সেসব আর হয়নি। বেলডাঙায় কয়েক হাজার লোক নিয়েই সভা হয়। তাতে নাম প্রকাশ করেন দলের। প্রথম দিন যেসব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন পরে সেসব প্রার্থীদের অনেকেই নাম প্রত্যাহার করে নেন।

বিশেষ করে বিতর্ক হয় বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে। নাম ঘোষণার পর জানা যায় সোশাল মিডিয়ায় বহু ভিডিও রয়েছে নিশার। যা জনতা উন্নয়ন পার্টির ভাবমূর্তি নষ্ট করবে বলেই মনে করছে দল। পরে ওই কেন্দ্রে আবুল হাসানকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন।

এ তো গেল প্রার্থী বিতর্ক। রাজ্যে কত আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি লড়বে, কাদের সঙ্গে জোট করবে, এসব নিয়েও বহু বিতর্ক হয়েছে। শুরুতে হুমায়ুন এক তরফা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কংগ্রেস, সিপিএম এবং আইএসএফকে জোটে নেবেন। কার জন্য কটা আসন ছাড়বেন সেটাও ঘোষণা করেন। যদিও পরে দেখা যায় মূল ধারার কোনও দলই তাঁর সঙ্গে জোটে রাজি নয়। শেষে AIMIM-এর সঙ্গে সমঝোতা করে ভোটে নেমেছিল হুমায়ুনের দল।

হেলিকপ্টার বাগিয়ে প্রচার করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হুমায়ুনের অভিযোগ, তিনি হেলিকপ্টার ভাড়া করেছেন অথচ সেটা নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া দিতে হচ্ছে। মজার কথা হল, এসবের মধ্যে আবার পথে যে রাস্তার দূরত্ব মতে ঘণ্টা দেড়েক, সেই বেলডাঙা থেকে ডোমকলেও হেলিকপ্টারে সফর করেছেন তিনি।

রাজ্যে কত আসনে লড়বেন তিনি, কোন আসনে নিজে লড়বেন, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি কত আসন পাবে, এসব নিয়েও পরস্পর বিরোধী কথা বলেছেন হুমায়ুন। বারবার তাঁকে নিয়ে হাসাহাসিও হয়েছে। আসলে রাজনীতির অন্ধগলিতে ইদানিং খানিক খাবি খাচ্ছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। সবটাই নিজের অপরিণামদর্শিতা, এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য। যার খেসারত তাঁকে দিতে হতে পারে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন