বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসটি পৃথিবীর ইতিহাসের চতুর্থ উষ্ণতম মার্চ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ইউরোপীয় সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই মাসের গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উষ্ণতা ২০.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরে খুব শীঘ্রই একটি ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। এর আগে ২০২৪ সালে সমুদ্রের সর্বোচ্চ উষ্ণতা রেকর্ড করা হয়েছিল, আর তার ঠিক দুই বছরের মাথায় সমুদ্রের এই তপ্ত অবস্থা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস গড়ল NASA; সফল Artemis II মিশন
তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার হারও সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মার্চ মাসে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফের বিস্তার ১৯৯১-২০২০ সালের গড় হারের তুলনায় ৫.৭ শতাংশ কম ছিল, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তর। একইভাবে দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলেও বরফের পরিমাণ গড়ের তুলনায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লাগবে হেল্থ সার্টিফিকেট, ৫৫৪টি ব্যাঙ্ক শাখায় রেজিস্ট্রেশন! কেন্দ্রের তোড়জোড় শুরু অমরনাথ যাত্রার
সি-থ্রিএস-এর অধ্যক্ষ কারলো বুয়োনটেম্পোর মতে, সমুদ্রের রেকর্ড উষ্ণতা এবং বরফ কমে যাওয়া—এই দুটি ঘটনা একসাথে প্রমাণ করে যে জলবায়ু ক্রমশ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে পূর্ব ইউরোপ ও হিমালয় অঞ্চলে যখন অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয়েছে, ঠিক তখনই আলাস্কা বা সাইবেরিয়ার মতো অঞ্চলে দেখা গিয়েছে রেকর্ড ভাঙা কনকনে ঠান্ডা। সব মিলিয়ে এক চরম অস্থির আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী।



