মুম্বইয়ের দিকে এগিয়ে আসছে স্বস্তির খবর। ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার জাগ বিক্রম নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। প্রায় ২২,৪০০ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে জাহাজটি এখন গাল্ফ অব ওমানে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এটি মুম্বইয়ে পৌঁছাবে।পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের ধাক্কায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ফ্লপ ২১ ঘণ্টার আলোচনা, হল না শান্তি কোনও চুক্তি
বিশ্বের তেল ও গ্যাসের এক বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে। ইরান-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাবে অনেক জাহাজ আটকে পড়ে। ভারতের এলপিজি আমদানির বড় অংশও এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সেই সংকটের মাঝে জাগ ভিক্রম-এর নিরাপদ যাত্রা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় একটি বড় স্বস্তি এনেছে।মুম্বইয়ের গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন এই মাঝারি আকারের এলপিজি ক্যারিয়ারটি গত কয়েকদিন ধরে হরমুজের পশ্চিমে অপেক্ষা করছিল।
ইরান-মার্কিন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর এটিই প্রথম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ যা এই প্রণালী পার হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে জাহাজটি নিরাপদে পার হয়। এখন এটি পূর্বদিকে এগিয়ে চলেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, এর যাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় এই খবর নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজে ভারতীয় নাবিকরা রয়েছেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু একটি জাহাজের খবর নয়, বরং দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় দেশে এলপিজি সংকট দেখা দিয়েছিল। অনেক জাহাজ আটকে পড়ে। ফলে বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চিন্তিত হয়ে পড়ে। সরকার তখন থেকেই বিকল্প রুট, অন্য দেশ থেকে আমদানি এবং আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। জাগ ভিক্রম-এর এই সফল যাত্রা সেই প্রচেষ্টার ফল।জাহাজটি মুম্বইয়ে পৌঁছানোর পর এই বিপুল পরিমাণ এলপিজি দেশের বিভিন্ন অংশে বিতরণ করা হবে।
এতে সিলিন্ডার সরবরাহে চাপ কমবে এবং বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিপিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে শিপিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে এখনও অনেক জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। ভারত সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে বাকি জাহাজগুলোকেও নিরাপদে ফেরানোর চেষ্টা করছে।



