এক মাস আগে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ অন্য। সবাই আতঙ্কে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং করছিলেন। এখন ছবি ঠিক উল্টো। আর এলপিজি বুকিং নয়, উল্টে বুকিং বাতিল করার হিড়িক পড়েছে। এতে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরা। কোথায় গ্যাস ডেলিভারি করবেন, কোথায় বুকিং বাতিল হল, তা খুঁজতে গিয়েই কালঘাম ছুটছে।
আরও পড়ুনঃ “আপনারা সবাই মোদি”! বঙ্গে মোদী
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। ভারতেও এই সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। এখনও যে সঙ্কট পুরো কেটে গিয়েছে, এমনটা নয়। তবে এলপিজি সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল হতেই, এবার হিড়িক পড়েছে বুকিং বাতিল করার। অনেকের আবার বাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি করতে গেলে তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন, কারণ সিলিন্ডার ফাঁকা নেই।
এক এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর বলেছেন, “পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হতেই প্রচুর বুকিং বাতিল হচ্ছে। অনেকেই আতঙ্কে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই সিলিন্ডার বুকিং করে রেখেছিলেন। এখন তাদের সিলিন্ডার ফাঁকা নেই, তাই নতুন রিফিল সিলিন্ডার নিতে পারছেন না।”
তথ্য তুলে ধরে তারা দেখিয়েছেন যে মোট অর্ডারের ৩০ শতাংশই পরেরদিনই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বুকিং বাতিলের মূল কারণ হিসাবে দেখানো হচ্ছে যে সিলিন্ডার ফাঁকা নেই বা কেউ বাড়িতে নেই।
আরও পড়ুনঃ ‘আজ যাই, আসব আরেক দিন’
এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, গ্যাসের ডেলিভারির সময়ও অনেকটা কমে এসেছে। ২৫ দিনেই ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বুকিংয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হচ্ছে। এখন আর সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসের সামনে ভিড় জমছে না। তবে এই ঘনঘন বুকিং বাতিলের কারণে ডেলিভারি পরিষেবা প্রভাবিত হচ্ছে। কারণ এক জায়গায় ডেলিভারি বাতিল হলে, অন্য বুকিং ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছে।
এলপিজি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু ওটিপি প্রয়োজন, তাই সঙ্গে সঙ্গে বুকিং বাতিল করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা ওটিপি দিচ্ছেন না, তাই ডেলিভারি এজেন্টকে বারবার যেতে হচ্ছে ডেলিভারি করতে, তারপর বুকিং বাতিল হচ্ছে।



