পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই তীব্র হচ্ছে শাসক-বিরোধী তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের বারবার ‘বহিরাগত’ অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন বাংলাভাষী, বাংলায় জন্মগ্রহণকারী এবং বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিত ব্যক্তি। অমিত শাহ বলেছেন, “তৃণমূলের এই ‘বহিরাগত’ অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করে না।
আরও পড়ুনঃ ভোট বঙ্গে সক্রিয় ইডি, গ্রেফতার আইপ্যাক কর্তা; বিপাকে তৃণমূল
বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলাভাষী, বাংলায় জন্ম নেওয়া এবং বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা একজন বাঙালি।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে ‘গুজরাটি বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করে আসছে। শাহ এই অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে বলেন, “কেউ এটা বিশ্বাস করে না। বাংলার মানুষ জানেন, বিজেপি বাংলারই দল।”
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিজেপি কোনো রাজবংশীয় দল নয়। তাই কোনো একক পরিবারের সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান, কিন্তু বিজেপি তেমন কোনো ‘পরিবারতন্ত্র’ বিশ্বাস করে না। শাহের ভাষায়, “বাংলার মানুষ যোগ্য, দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব চান। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই যোগ্য বাঙালিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”
আরও পড়ুনঃ কেউ হুমকি দিচ্ছে? ভয় দেখাচ্ছে? ফোন করুন এই নম্বরে
এই ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য কে হতে পারেন সেই ‘বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী’? শাহ অবশ্য স্পষ্ট করে কোনো নাম ঘোষণা করেননি। তিনি বলেছেন, “নির্বাচনের পর দলীয় বিধায়কদের মতামত নিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হবে।” এতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের মধ্যে একধরনের স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক চাল’ বলে খারিজ করেছে। দলের নেতারা বলছেন, শাহ গুজরাট থেকে এসে বাংলার মানুষকে বোকা বানাতে চাইছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “বিজেপি বাংলাকে দিল্লি থেকে চালাতে চায়। বাঙালির অভিমানকে তারা বুঝবে না।” অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেসও শাহের বক্তব্যকে ‘বিভাজনকারী’ বলে সমালোচনা করেছে।



