পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সোমবার আই-প্যাকের (ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি) কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর ভিনেশ চন্দেলকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত একটি অর্থ পাচার মামলায় হয়েছে। আই-প্যাক ২০২১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ কেউ হুমকি দিচ্ছে? ভয় দেখাচ্ছে? ফোন করুন এই নম্বরে
ইডি সূত্র জানিয়েছে, ভিনেশ চন্দেলকে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করছেন, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা চুরির ঘটনায় অর্জিত অবৈধ অর্থ হাওলা ও অন্যান্য মাধ্যমে আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থায় সরানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কয়লা পাচারের একাধিক মামলা জড়িত। ইডি ইতিমধ্যে আই-প্যাকের অফিসসহ সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে।
ভিনেশ চন্দেল আই-প্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই সংস্থা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী কৌশল, ডেটা অ্যানালিসিস, ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রাউন্ড লেভেল ম্যানেজমেন্টে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ২০২১ সাল থেকে আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচারণা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই গ্রেফতারের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুগান্তকারী পদক্ষেপ; জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ, ভোটকেন্দ্রে ছাপ্পা রুখতে এবার বায়োমেট্রিক?
তৃণমূল কংগ্রেস এই গ্রেফতারকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে। দলের নেতারা বলছেন, বিজেপি-শাসিত কেন্দ্র সরকার রাজ্যে তৃণমূলকে দুর্বল করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে। একজন তৃণমূল নেতা বলেন, “আই-প্যাক একটি প্রফেশনাল কনসালটেন্সি ফার্ম। তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি সম্পূর্ণ আইনি ও স্বচ্ছ। এই গ্রেফতারের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।”অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।



