পুরী থেকে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে আটক করা হল। সূত্রের খবর, পুরীর সমুদ্র-লাগোয়া একটি বিলাসবহুল হোটেলের তিনতলার ঘরে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেছে। আপাতত যা খবর, তাতে ট্রানজিট রিমান্ডে তৃণমূল বিধায়ককে আনা হবে পশ্চিমবঙ্গে। তারপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ পিনারাই বিজয়নের মুখ্যমন্ত্রী পদ যেতেই বাড়িতে হাজির ইডি
এমনিতে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের রেডারে ছিলেন দিলীপ। গত ১৪ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে বিধায়কের বাড়িতে যান পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। একটি বাড়ির ভিতরের দৃশ্য দেখে তো অনেকে ভ্যাবাচাকা খেয়ে গিয়েছিলেন। অনেকের বক্তব্য, রাজপ্রাসাদের থেকে কম কিছু ছিল না দিলীপের বাড়ি। কিন্তু সেখানে ছিলেন না বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক।
যে তৃণমূল বিধায়ককে অনেকদিন ধরেই খুঁজছে পুলিশ। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় বিজেপিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় দুটি এফআইআর করা হয় জামিন অযোগ্য ধারায়। যে ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, সেখানে দিলীপকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেক সংযম দেখিয়েছি। ১৫ বছর শান্তিতে রেখেছিলাম। আর হবে না। পুলিশকে ভয় পাই না। অর্জুন সিং, তাপস রায়কে জিজ্ঞাসা করে নিক, দিলীপ মণ্ডল কে?’
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘মন কাঁদল’ বিকাশের; বসালেন দলাই লামার সারিতে
সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই বিধায়কের বাড়িতে যান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তবে সেখানে তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পিছনে জানলা দিয়ে পালিয়ে, নর্দমা ডিঙিয়ে, পায়ের পাজামা ছিঁড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। দিলীপের বাড়িতে হানা দেওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ি নিয়ে জোর চর্চা রাজ্য জুড়ে। তাঁর বাড়িতে রয়েছে বড় লন, সুইমিং পুল, পুকুর, দোলনা, বাগানে হরিণ থেকে বাঘের মূর্তি। আছে দামি ম্যাকাও পাখি।



