ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পাশে দাঁড়ালেন অধীর চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এমনই অবস্থা যে কেউ চাইলে ভারতে প্রাতঃরাশ করতে পারেন। তারপর বাংলাদেশে গিয়ে সেরে নিতে পারেন মধ্যাহ্নভোজ। আবার রাতে কলকাতায় এসে নৈশভোজ সম্পন্ন করতে পারেন বলে দাবি করেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘আমি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে একটা প্রতিবেদন লিখেছিলাম। সেখানে লিখেছিলাম, কেউ যদি মনে করে সকালে ইন্ডিয়ায় ব্রেকফাস্ট করবে, দুপুরে বাংলাদেশে লাঞ্চ করতে পারে, রাতে আবার ডিনার করতে কলকাতায় চলে আসতে পারে। আমি এটা নিজেই বলেছিলাম।’
আরও পড়ুনঃ ট্যাংরার তৃণমূল পার্টি অফিসে উদ্ধার আধার ও ভোটার কার্ডের স্তূপ
সেই রেশ ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকেও আক্রমণ শানিয়েছেন অধীর। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই তো ফেন্সিং হয়ে যাক। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি আছে। আমি নিজে পিএসসি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি নিজে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটা বলে আসছি রাজ্যকে।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সুরক্ষার জন্য (সীমান্তে বেড়া) দিতেই পারে। এখানে রাজ্যকে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে সেই সহযোগিতা ছিল না। এটা দুর্ভাগ্যের।’

আর অধীর সেই মন্তব্য করেছেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে শুভেন্দু সরকারের কড়া পদক্ষেপের পরে। মমতার আমলে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জমিপ্রদান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। শুভেন্দু সরকার ক্ষমতা আসতেই সেই জট কেটে গিয়েছে। বিএসএফের হাতে ধাপে-ধাপে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ইতিমধ্যে ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ! কোন পথে হাঁটবে লাল ফৌজের কর্মীরা?
কোন জেলায় BSF-কে কতটা জমি দেওয়া হয়েছে?
১) কোচবিহার: ২২.৯৫ একর।
২) জলপাইগুড়ি: ৩৫.১৬৫ একর।
৩) দার্জিলিং: ৮.৮১৫ একর।
৪) উত্তর দিনাজপুর: ২.৮৪ একর।
৫) দক্ষিণ দিনাজপুর: ২০.১৭০১ একর।
৬) মালদা: ১০.৯ একর।
৭) মুর্শিদাবাদ: ৩৮.৮০৫ একর।
৮) নদিয়া: ০.৫৫ একর।
৯) উত্তর ২৪ পরগনা: ২.৬ একর।



