Saturday, 30 May, 2026
30 May
Homeদক্ষিণবঙ্গAditi Munshi: খোল-করতাল, গ্লিসারিন; 'পরিস্থিতির শিকার' এক সুবিধাবাদী শিল্পীর ইউ-টার্ন!

Aditi Munshi: খোল-করতাল, গ্লিসারিন; ‘পরিস্থিতির শিকার’ এক সুবিধাবাদী শিল্পীর ইউ-টার্ন!

"কী আশায় বাঁধি খেলাঘর, পুলিশের ডাকে নেতা হলো পর!"

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

​বাংলার চায়ের ঠেক থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল— সর্বত্র এখন একটাই মেগা-সিরিয়াল সুপারহিট। নাম দেওয়া যেতে পারে: “ভুলিতে তোমারে প্রাণে অবলা, তাই পুলিশের ভয়ে ছাড়ছি দলের গলা!”

​দৃশ্যটা একবার চোখ বুজে কল্পনা করুন। ব্যাকগ্রাউন্ডে করুণ সুরে ভৈরবী রাগ বাজছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে আমাদের অতি পরিচিত এক কীর্তন-গায়িকা ‘অদিতি’-র ছবি। চোখে গ্লিসারিনের বন্যা, কপালে চিন্তার ভাঁজ, আর হাত দুটো জোড় করা। ছবির ক্যাপশন— “আমি পরিস্থিতির কবলে পড়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম! আমাকে ক্ষমা করুন, আমি আবার গানে ফিরতে চাই!”
​এই পোস্টার দেখে বাংলার আমজনতা হাসতে হাসতে খাট থেকে পড়ে যাওয়ার জোগাড়! কেন? কারণ এই “পরিস্থিতির চাপ“-এর পেছনের চিত্রনাট্যটা টলিউডের যেকোনো থ্রিলারকেও হার মানাবে। আসুন, সাম্প্রতিক কিছু বাস্তব ঘটনার আলোকে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে আসল ক্রোনোলজিটা বুঝি।

আরও পড়ুনঃ পরিবর্তনের রাজ্যে পুরনিগম বোর্ডে প্রথম ভাঙন! মেয়রহীন চন্দননগর

অঙ্ক ১: ‘খালি পকেট আর মা লক্ষ্মীর খোঁজ’
বাঙালি আজকাল ইউটিউবে ফ্রি-তে গান শোনে। শুধু কীর্তন বা বাংলা গান গেয়ে আর ক’টাকা রোজগার হয়? গানের রয়্যালটির টাকায় কি আর পুজোয় রাজারহাটে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা যায় বা বিদেশে ছুটি কাটানো যায়? একদম নয়! বাংলার মিউজিক কেরিয়ারে তো আর কোটি কোটি টাকা ওড়ে না, আর শিল্পীর অভাবও ছিল নিত্যসঙ্গী। তাই আমাদের শিল্পীর মনে হলো, “মা সরস্বতীর আরাধনা তো অনেক হলো, এবার মা লক্ষ্মীর শর্টকাট দরকার।” আর সেই শর্টকাট কী? সোজাপথে শাসকদলের কোলে ঝম্পদান! আর শুধু দলেই ঢোকা নয়, সোজা এক দাপুটে নেতার গলায় মালা দিয়ে তাঁর ঘরণী হয়ে যাওয়া।

​অঙ্ক ২: ‘ভাইপো-কানেকশন’ ও দুর্নীতির স্বর্ণযুগ
পরিস্থিতির কী নিদারুণ চাপ! সেই চাপের চোটে গায়িকা যাঁর গলায় মালা দিলেন, তিনি যে সে নেতা নন, একেবারে দলের ‘সর্বময় ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস লোক! আমজনতা ভাবল, বাহ! সুরের সাথে ক্ষমতার কী অপূর্ব মিলন! কিন্তু আসল খেলা তো সবে শুরু। গলার সুর দিয়ে যা রোজগার হতো না, নেতার বউ হওয়ার সুবাদে, আর ‘ভাইপো’-র ছত্রছায়ায় সেই রোজগার গিয়ে ঠেকল কোটি কোটি টাকায়। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট আর অবৈধ দুর্নীতির টাকায় গায়িকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তখন শুধু ‘সা-রে-গা-মা-পা’ নয়, বাজতে শুরু করল ‘লাখ-লাখ-কোটি-কোটি’ টাকার সিম্ফনি। আজন্মের দারিদ্র্য ঘুচে গিয়ে একেবারে রাজকীয় জীবন! সাত পুরুষের বসে খাওয়ার বন্দোবস্ত পাকা। সবই নাকি ওই ‘পরিস্থিতির চাপে‘! আহারে, বেচারা!

অঙ্ক ৩: ৪ঠার বজ্রপাত ও পুলিশের ‘লাভ লেটার’
কিন্তু কথায় আছে না, ‘পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়’! ৪ঠার ভোটের রেজাল্টের পর যখন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করল, যখন শাসকদলের নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙতে শুরু করল, তখনই এল আসল ক্লাইম্যাক্স। ক্ষমতার দম্ভে যে নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন, তাঁদের পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করল। ভাইপোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে গায়িকার স্বামীদেবতার কাছেও চলে এল পুলিশের তলব! দুর্নীতির ফাইল খুলতে শুরু করল। অফিসাররা ডাক পাঠালেন— “আসুন দাদা, একটু থানায় বসে চা খাব আর আপনার ওই কোটি কোটি টাকার বেআইনি সম্পত্তির হিসেবটা নেব!

অঙ্ক ৪: ‘এবার তোরা চল রে ঘরে’ (গ্লিসারিন ড্রামা)

স্বামী যখন দুর্নীতির দায়ে পুলিশের জেরার মুখে ঘামছেন আর জেলের হাওয়া খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই আমাদের ‘পরিস্থিতির চাপে’ পড়া শিল্পীর হঠাৎ দিব্যজ্ঞান লাভ হলো! ডুবন্ত জাহাজ থেকে ইঁদুর পালানোর মতো তিনি বুঝলেন, এখন দলের নাম নিলে আর রক্ষে নেই।

​তাই তড়িঘড়ি আলমারি থেকে হারমোনিয়ামটা ঝেড়েঝুঁড়ে বের করে, চোখে গ্লিসারিন মেখে লাইভে এলেন— “আমি তো নিরীহ গায়িকা! আমি তো রাজনীতি বুঝতাম না! আমাকে গানে ফিরতে দিন!

​জনতা মুচকি হেসে বলছে, “আরে দিদি! সে তো আমরা বুঝতেই পারছি। এখন তো আর আপনার কোনো দারিদ্র্য নেই। স্বামীর দৌলতে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা কামানো হয়ে গেছে। এখন তো আর তৃণমূল করার দরকার নেই। তাই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ‘সেফ এক্সিট’ নেওয়ার এর চেয়ে ভালো রাস্তা আর কী হতে পারে! টাকা গোনা শেষ, এবার একটু গলা সাধি আর নিজেকে সাধু প্রমাণ করি!”

আরও পড়ুনঃ ভোররাতে ধুন্ধুমার! আটক নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান

বাংলার মানুষ আবেগী হতে পারে, তবে তারা বোকা নয়। এই সব ‘বসন্তের কোকিল’ অভিনেতা-অভিনেত্রী বা শিল্পীরা, যাঁরা ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে বাংলার মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলে বাংলাকে ধ্বংস করেছেন, তাঁরা এখন দল বিপদে পড়তেই শুধু একটা “আমি তো শিল্পী” বলে পার পেয়ে যাবেন? কক্ষনও না!

​সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছে জনতার একটাই দাবি— প্রত্যেকটা দুর্নীতিগ্রস্ত শিল্পী আর সেলিব্রিটিকে কলার ধরে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। এঁদের কাউকে পালাতে দেওয়া চলবে না। পুলিশের উচিত, দিদিমণির হাতে তানপুরাটা তুলে দেওয়ার আগে ওর ব্যাঙ্কের পাসবইটা আর হারমোনিয়ামের বাক্সটা একটু ভালো করে চেক করা, কে জানে ওর ভেতরে কত কোটি টাকা আর বেনামি সম্পত্তির দলিল লুকোনো আছে!

​যতক্ষণ না এই দুর্নীতিগ্রস্তদের কড়া বিচার হচ্ছে, ততক্ষণ গায়িকা বরং পুলিশের ওয়েটিং-রুমে বসেই গলা সাধুন— “কী আশায় বাঁধি খেলাঘর, পুলিশের ডাকে নেতা হলো পর!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন