Friday, 17 July, 2026
17 July
HomeকলকাতাTMC: ব্রাত্যই বা ব্রাত্য থাকবেন কেন? ঘাসফুল শিবিরে ভুমিকম্প

TMC: ব্রাত্যই বা ব্রাত্য থাকবেন কেন? ঘাসফুল শিবিরে ভুমিকম্প

তৃণমূল নেত্রী সম্ভবত আগেই আন্দাজ করতে পেরেছেন যে জাহাজের ফাটল কতটা চওড়া হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক ভরাডুবির পর থেকে দলের প্রভাবশালী নেতা ব্রাত্য বসুর অবস্থান একেবারে অন্তরালে চলে এসেছে। কালীঘাটের তৃণমূল শাখার নেত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্রাত্য বসুকে এখন আর দেখা যায় না। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে ব্রাত্য এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এই গুঞ্জনে ব্রাত্য নিজে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি, ফলে বিষয়টি অনিশ্চিত থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ সপ্তাহান্তে বাতিল একাধিক ট্রেন; নৈহাটি জংশনে আধুনিকীকরণের কাজ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের পতনের পর দলের ভেতরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। জুন মাসের শুরুতে রাজ্যসভা থেকে পরপর ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এর পাশাপাশি কোয়েল মৈত্রও ইমেলের মাধ্যমে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন, যা তখন গ্রহণ করা হয়নি। উপ রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ কোয়েলকে সরাসরি সংসদে এসে ইস্তফা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৬ জুলাই কোয়েল নিজে হাতে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে মাত্র দুই মাস দশ দিনের মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ ত্যাগ করেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ সংগঠনিক নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, ১৬ জুলাই ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগকারী নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, যারা বিজেপির চাপে এবং আইনি জটিলতায় দল ছাড়তে চান, তারা ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে যেতে পারেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন দলকে কলুষিত করার চেষ্টা যেন না করেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দল থেকে কেউ গেলেও তৃণমূল দুর্বল হবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক মহলে আরও শোনা যাচ্ছে, ব্রাত্য বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং তাঁর শিবিরের প্রতি নেতাদের আকর্ষণ বাড়ছে। এছাড়া, রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং জঙ্গলমহলের মানবাজারের প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা সন্ধ্যারানি টুডুও ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে। এরা তৃণমূলের ভাঙন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।

আরও পড়ুনঃ “অন্ধকারের উত্তরাধিকার”! TMC ছাড়ছেন ‘বিতর্কিত’ মণীশ গুপ্ত

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতারা কালীঘাট তৃণমূল শাখায় আরও বিশাল ভাঙন হবে বলে দাবি করছেন। তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে দলের আরও সদস্য দলত্যাগ বা শিবির বদল করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের আগে।

সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদরা এখন নজর রাখছেন, আগামী ২১ জুলাইয়ের আগে এই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দলত্যাগের ধারা কতদূর বিস্তৃত হয়। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সোশ্যাল মিডিয়া ও পার্টির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত আপডেট দিয়ে যাচ্ছেন এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, তবুও রাজনৈতিক চাপ ও আইনি হেনস্থার কারণে নেতাদের মনোভাব পরিবর্তনের বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

সার্বিকভাবে, তৃণমূলের ভেতরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজন স্পষ্ট। ব্রাত্য বসুর মতো প্রভাবশালী নেতার দিক পরিবর্তন দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সময়েই দল ও নেতাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি ঐক্য ও দৃঢ় নেতৃত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন