২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল। আর তাতে সবথেকে বড় চমক দিয়েছে বিখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা ‘টুডেজ চাণক্য’। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখল করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। চাণক্যের সমীক্ষা বলছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯২টিরও বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১০০ (± ১১) আসনেই থমকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শতাংশের হিসেবে তৃণমূলের ঝুলিতে ৩৮% ভোট যেতে পারে, যেখানে বাম-কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলগুলো কার্যত মুছে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
ইভিএম নিরাপত্তা ও কারচুপির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হলের স্ট্রংরুমে সশরীরে হাজির হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন ঘিরেই এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে লিখেছেন, “ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনওরকম নিয়ম-বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি।”
শুভেন্দু আরও দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যতক্ষণ স্ট্রংরুম চত্বরে ছিলেন, ততক্ষণ বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া পাহারার ব্যবস্থা ছিল। তাঁর কথায়, “উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওনাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন, যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।”
আরও পড়ুনঃ স্ট্রংরুমে মমতার অবস্থানের পর সতর্ক শুভেন্দু! বৈঠকে ডাকলেন কর্মীদের
অন্যদিকে, তপ্ত রাজনীতির মাঝেই স্বস্তির বৃষ্টি নাকি দুর্যোগের ভ্রুকুটি? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, আপাতত কয়েকদিন রোদ-চশমা নয়, ছাতা হবে আপনার নিত্যসঙ্গী। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ থেকেই দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই আবহাওয়া চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেশি হতে পারে। সেখানে আগামী ৭ মে পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বেশ কিছু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ধস ও সমতলে জল জমার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


