ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় আজ কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধান বিচারপতির এজলাসে সওয়াল করতে চেয়ে বলেন, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী, সেই অধিকারেই সওয়াল করতে চাই। এদিকে মমতা সওয়াল করতে উঠতেই মমতাকে কটাক্ষ করে এক আইনজীবী এজলাসে চেঁচিয়ে ওঠেন, এখানে নাটক করতে আসবেন না। এরপরই এজলাসে কিছুটা বাক্য বিনিময় হয়।
আরও পড়ুনঃ ১০ দিনের জল্পনার অবসান! ভিডি সতীশন কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে
এদিকে মামলার শুনানি চলাকালীন তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্য জুড়ে নবদম্পতি থেকে বৃদ্ধদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, এক ১৮ বছর বয়সি সদ্য বিবাহিত তরুণীকে নাকি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে মমতার আরও অভিযোগ, তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই তিনি অনলাইনে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মমতার কথা, সংখ্যালঘু থেকে তপশিলি জাতির ওপর হামলা করা হচ্ছে। মামলাকারী আইনজীবীদের আরও দাবি, রাজ্যে বুলডোজার চলছে। মমতা বলেন, ‘এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।’ আদালতে সওয়াল করা হয় তিলজলা কাণ্ডে বুলডোজার চালানো নিয়ে। এমনকী ভোটের পরে হগ মার্কেটে বুলডোজার চালানোর ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
আরও পড়ুনঃ মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, হুলস্থুল কাণ্ড আদালত চত্বরে
উল্লেখ্য, এই মামলায় সওয়ালকারী অন্য আইনজীবী হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা সাংসদ কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে সেই মামলার সওয়াল করতেই আইনজীবীর পোশাকে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাই কোর্টে প্রবেশের সময় তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। আদালত চত্বরে উপস্থিত বহু আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল তৈরি হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টেও এসআইআর মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা।


