তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতর তৃণমূল ভবন সংকটে। বাড়ির মালিক মনোতোষ সাহা (মন্টু সাহা) তৃণমূল কংগ্রেসকে দু’মাসের মধ্যে ভবন খালি করে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন। এই খবর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন তৃণমূলের বহিস্কৃত মুখপাত্র ঋজু দত্ত। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।এই পোস্টের সঙ্গে নোটিশের ছবিও শেয়ার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আসানসোলে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে গেল ইস্পাত কারখানার জমি দখলকারী তৃণমূল কার্যালয়
নোটিশে মনোতোষ সাহা জানিয়েছেন যে ভবনের ভাড়া ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে। তিনি দাবি করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ না হওয়ায় এবং অন্যান্য বক্তব্যের কারণে তিনি ভবন খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন।তৃণমূল ভবন কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। এখান থেকেই দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম, সাংবাদিক সম্মেলন এবং বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতারা প্রায়ই এখানে আসেন।
হঠাৎ এমন নোটিশ আসায় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকে এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন।মনোতোষ সাহা ‘মডার্ন ডেকোরেটর’-এর মালিক হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ভবনের মালিকানায় রয়েছেন। সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে ভাড়া নিয়ে বেশ কয়েকবার অসুবিধা হয়েছে। মালিকপক্ষ দাবি করেছে, নিয়মিত ভাড়া না পাওয়ায় এবং ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যা থাকায় তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, তারা বিষয়টি আইনি পথে দেখবে এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে।
আরও পড়ুনঃ মমতার ‘অহংকার’ ভেঙে গুড়িয়ে দিল শুভেন্দু সরকার
ঋজু দত্তের পোস্টের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রমাণ বলে কটাক্ষ করেছেন। তৃণমূলের অন্দরে অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া খুব বেশি দেখা যায়নি। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ আইনি ও বাণিজ্যিক বিষয়। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। কেউ কেউ বলছেন, নতুন করে আরও বড় ও আধুনিক দলীয় কার্যালয় তৈরির পরিকল্পনাও চলতে পারে। তবে দু’মাসের সময়সীমা খুবই কম বলে মনে করছেন অনেকে।



