কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে এখন চরম অরাজকতা। কলকাতা পুরসভায় গতকাল শুক্রবার যে নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা কেবল নিয়মবহির্ভূত নয়, বরং তৃণমূলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব ও বিশৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ। অধিবেশন কক্ষের পরিবর্তে ভিজিটার্স রুমে কাউন্সিলরদের সভা করা কোনো সাহসিকতা নয়, বরং তৃণমূলের অসংগঠিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির নগ্ন রূপ।
আরও পড়ুনঃ মে মাসের শেষেই আসতে পারে IT রুলস! বন্ধ হতে পারে মিডিয়া হাউসের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ
জনগণের আকাঙ্ক্ষা: ব্যর্থ প্রশাসকদের বিদায়
আজ শহরের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—কলকাতা এই অযোগ্য ও ব্যর্থ পুর প্রশাসকদের আর দেখতে চায় না। উন্নয়নের নামে যারা কেবল নিজেদের পকেট ভারী করা এবং গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে ব্যস্ত, তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। শহরের নাগরিক পরিষেবার যে বেহাল দশা, তার দায় এড়াতে পারেন না তৃণমূলের পুর প্রতিনিধিররা। নাগরিকরা আজ বুঝে গেছেন যে, এই দলটির ওপর আস্থা রাখা মানেই নিজেদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। তিলোত্তমার মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, তারা এমন এক প্রশাসক চায় যারা রাজনীতির চেয়ে জনসেবাকে গুরুত্ব দেবে।
নির্দেশের তোয়াক্কা নেই, দলে চরম বিশৃঙ্খলা
দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে যখন প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলর অধিবেশন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তখন পরিষ্কার হয়ে যায় যে তৃণমূলের অন্দরে এখন কোনো শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। যারা নিজেদের দলের বিধিনিষেধ মানতে পারে না, তারা শহর সামলাবে কী করে? এই অভ্যন্তরীণ ভাঙনই প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন পতন আর বিশৃঙ্খলার সুর বেজে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ গরম আজ সামান্য বাড়তে পারে কলকাতায়; উঠবে ঝড়, বৃষ্টিও হবে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলা
লজ্জাহীন রাজনীতির শিকার আমজনতা
পুর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়বদ্ধতা না দেখিয়ে, ফিরহাদ হাকিম ও মালা রায়ের মতো নেতারা একে অপরের দিকে আঙুল তুলে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে তারা যে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তার প্রমাণ গতকালের এই নজিরবিহীন নাটক।
দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, কাটমানি সংস্কৃতি এবং স্বজনপোষণের অভিশাপে তৃণমূলের ভিত আজ নড়বড়ে। কলকাতার মানুষ আর এই অদক্ষ পুরবোর্ডকে সহ্য করতে রাজি নয়। অন্দরের এই ভাঙন এবং জনতার ক্ষোভ—উভয়েই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় তৃণমূল। পরিবর্তন অনিবার্য, আর সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে তিলোত্তমার মানুষ।



