গত দফার ভোটে যে বেনজির অশান্তি আর কারচুপির সাক্ষী হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র, তার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচন। নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আগের দফার অনিয়মের ক্ষত ঢাকতে এবার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে কমিশন। ফলে আজ সারাদিনই রাজ্য রাজনীতির সব নজর থাকবে ফলতার ভোট পরিস্থিতিতে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে গ্রেফতার পাক-চর জাফর রিয়াজ
গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের সময় দেদার কারচুপি এবং ইভিএমের সঙ্গে কারসাজির ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে এসেছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণেই এবার নিরাপত্তার পারদ চড়ানো হয়েছে এক ধাক্কায় অনেকটা।
বুথ সংখ্যা: ফলতার মোট ২৮৫টি বুথেই আজ নতুন করে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
ফোর্সের বহর: এই ২৮৫টি বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কড়া নজরদারি: ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে বিন্দুমাত্র স্বচ্ছতার অভাব না থাকে, তার জন্য সবকটি বুথেই চলছে লাইভ ওয়েব কাস্টিং। প্রতিটি বুথের ভেতরের ও বাইরের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর সরাসরি নজর রাখছে দিল্লির নির্বাচন সদন এবং কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতা বিধানসভা আসনের ভোটকে কেন্দ্র করে এর আগে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। বুথ দখল থেকে শুরু করে ইভিএম মেশিনে আঠা বা কালি লেপে দেওয়ার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। ভোট লুটের সেই সমস্ত অভিযোগকে মান্যতা দিয়েই কমিশন পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আজ নতুন করে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল।
আরও পড়ুনঃ জ্বালানি সাশ্রয়ে চালু হোক ট্রাম রুট; দাবি পরিবেশ কর্মীদের
এবার প্রতিটি বুথে অন্তত এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা গত দফার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। স্বভাবতই, আগের দফার ভোট নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখে আজ প্রশাসন কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ। সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন, তবে শেষ পর্যন্ত কোনও অশান্তি ছাড়াই এই পুনর্নির্বাচন পর্ব মেটে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
২১ মে-এর এই বহু প্রতীক্ষিত ফলতা কেন্দ্রের নির্বাচনের ঠিক মুখেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা ‘পুষ্পা’ খ্যাত জাহাঙ্গীর খান। জানিয়েছেন, ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
এই পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা হবে আগামী ২৪ মে।



