চরম প্রশাসনিক জটিলতা ও নাগরিক পরিষেবার নজিরবিহীন অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে অবশেষে ভেঙে দেওয়া হলো তৃণমূল পরিচালিত তারকেশ্বর পুরসভা। পুর এলাকার সাধারণ মানুষকে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশিকা এবং পুর আইন মেনে তারকেশ্বর পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হুগলি জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আশিস কুমার রায়কে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত প্রমানিত হল; মীনাক্ষীর গাড়িতে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলো পুলিশ
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এক চরম সংকটের মুখে পড়ে তারকেশ্বর পুরসভা। রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই পুরপ্রধান (চেয়ারম্যান) উত্তম কুন্ডু-সহ একাধিক বিদায়ী পুরপিতার (কাউন্সিলর) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়ার একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। এর পরেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় রাতারাতি গা ঢাকা দেন পুরপ্রধান ও শাসকদলের কাউন্সিলররা। পুলিশ তাঁদের হন্যে হয়ে খুঁজলেও এখনও কোনো হদিস মেলেনি।
শীর্ষ কর্তাদের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পুরসভায় চূড়ান্ত ডামাডোল ও প্রশাসনিক অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, চলতি মাসে পুরকর্মীদের একাংশের বেতন পর্যন্ত আটকে যায়।
তারকেশ্বর পুরসভার মোট ১৫টি ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবা সঠিক পরিচালনার অভাবে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভরা বর্ষার মরশুমে রাস্তাঘাটে জল জমে থাকা, ডেঙ্গি প্রতিরোধে মশা মারার তেল স্প্রে করার মতো জরুরি কাজ পুরোপুরি বন্ধ। শুধু তাই নয়, মৃতদেহ সৎকারের শংসাপত্র প্রদান, মিউটেশন, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুর-পরিষেবাগুলিও সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলের অনুমতি; শর্ত দিল আদালত
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরপ্রধান এবং কাউন্সিলরদের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে আগেই একটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো সন্তোষজনক জবাব না মেলায়, পুর আইন অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত এই পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন।
সামনেই তারকেশ্বরের বিখ্যাত শ্রাবণী মেলা। রাজ্যের নতুন সরকার এবারের শ্রাবণী মেলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা জলযাত্রী এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ও সুরক্ষার জন্য সব ধরনের নাগরিক পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর নবনির্বাচিত সরকার। ইতিমধ্যেই হুগলি জেলা প্রশাসনকে সেই মতো কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় পুরসভার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেলা শুরুর আগেই এই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রশাসক বসিয়ে তারকেশ্বর পুরসভাকে সচল করার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন।


