মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও মঙ্গলবার জানিয়েছে, একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ড্রোনের (ইউএভি) হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় জাহাজটির সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনও নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশেরও কোনও ক্ষতি হয়নি। জাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি! ১৮৮ টাকায় ‘পটল’! USর ভারতীয় স্টোরে উপচে পড়া ভিড়
এর আগে একই দিনে আরও দুটি জাহাজে হামলার খবর সামনে আসে। তার মধ্যে কাতারের তেলবাহী জাহাজ আল-রেকাইয়াত ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার হয়। জানা গিয়েছে, ভারতমুখী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় এর বাঁ দিক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অপর একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা হয় এবং সেটিরও কাঠামোগত ক্ষতি হয়। তবে ওই ঘটনাতেও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে কাতার। দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতারের জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল এবং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সরাসরি আঘাত। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর ও স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। কাতারের দাবি, এই ঘটনার জন্য ইরানকে সম্পূর্ণ আইনি দায় বহন করতে হবে। ঘটনার জেরে কাতার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্রও দিয়েছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। তবে হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি তেহরান।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে অব্যাহত মেসি মহাকাব্য! ১৩ মিনিটে ৩ গোল
সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত রুট ব্যবহার করলেই জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। গত সপ্তাহে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, এই সমুদ্রপথে চলাচলকারী সমস্ত তেলবাহী জাহাজকে নির্ধারিত রুট মেনেই চলতে হবে। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এই এলাকায় মার্কিন সেনা কোনও হস্তক্ষেপ করলে তার দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছিল। সেই চুক্তির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। গত সপ্তাহেই ২০০-র বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে ইউকেএমটিও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও ‘উচ্চমাত্রায়’ রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের এই সমুদ্রপথে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই পথ অচল হয়ে গেলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকও আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের শুরুতে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত জনতার একাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


