ক্রমেই আরও উত্তাল হচ্ছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। সেখানে দিকে দিকে প্রতিবাদের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে সদ্য জেএএসি সংগঠনের নেতা সর্দার আলম পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর মুখোশ খুলে দিতে শুরু করেছেন। এরই মাঝে বিশ্ব জুড়ে পিওকে ইস্যুতে প্রতিবাদের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছেন পিওকের প্রতিবাদীরা। উল্লেখ্য, পাকিস্তান যেখানে সিন্ধুর জল থেকে শুরু করে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে গলা চড়াচ্ছে, সেখানে পিওকে কার্যত পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে।
সদ্য এক সভায় জেএএসি নেতা সর্দার আলম বলেন,’ তারা আমাদের কী বলে? সন্ত্রাসী! আমি আপনাদের সবার সামনেই একথা বলছি! পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই কাশ্মীরিদের হাতে বন্দুক তুলে দিয়েছিল! আর তবুও তারা আমাদের সন্ত্রাসী বলে!’ এরই সঙ্গে তিনি বলেন,’ রাওয়ালকোটের ডেপুটি কমিশনার, আপনিই তো তখন মিছিলের আয়োজন করতেন! আপনার কি মনে আছে, নাকি নেই? তিনি তাদের (সন্ত্রাসীদের) মিছিলের আয়োজন করতেন! তিনি আমাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করাতেন। আর অ্যাকশন কমিটির লোকজন,তারা কি সন্ত্রাসী? অ্যাকশন কমিটির লোকজন সন্ত্রাসী নয়। আমরাই এই ভূমির উত্তরাধিকারী।’ কিছুদিন আগেই পিওকের মাটি থেকে আওয়াজ উঠেছিল, ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ বলে। এরপর পাকিস্তানের প্রশাসনের প্রতি এই বড় বার্তা দিয়েছেন সেখানের স্থানীয় নেতা।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের পরও প্রাক্তনকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব! মেয়ের বাবা হলেন প্রেতকথা-র গৌরব
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাওয়ালাকোটে আয়োজিত এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে শত শত মানুষ সমবেত হন। সেখানে ‘জম্মু-কাশ্মির জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-র নেতা ও আইনজীবী খাজা মেহরান এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন দমনের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। খোয়াজা মেহরান বলেন, ‘লড়াই শেষ নিঃশ্বাস অবধি করব।’ জানা যাচ্ছে, আগামী ৫ জুলাই বিশ্বজুড়ে কাশ্মীরি আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদে শামিল হবেন, যাতে আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসে তাঁদের পরিস্থিতি।
১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানে বসতি স্থাপনকারী জম্মু ও কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার বিধানসভার ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে জেএএসি সমগ্র POJK (পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর) জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, পাকিস্তানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এই অঞ্চলটিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কাজে আসনগুলোকে ব্যবহার করে থাকে।


