বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজ্যের একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ভিন্রাজ্যে অবৈধভাবে রক্ত ও রক্তের উপাদান বিক্রি এবং রক্তদান শিবিরে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের এক বিশাল কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এই দুর্নীতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে। প্রাথমিকভাবে লাইসেন্স বাতিল ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, কর্মসংস্থান ও উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রেখে অসংগতি শুধরে নেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উত্তরে কেলেঙ্কারি; চা বাগানের জমি বিক্রির টাকা তৃণমূল ফান্ডে!
কী ভাবে চলত রক্তের বেআইনি কারবার?
-
ভিন্রাজ্যে বেআইনি পাচার: নিয়ম অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া রক্ত বা রক্তের উপাদান পাঠানো নিষেধ। তবে তদন্তে দেখা যায়, গত ছ’মাসে দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক কোটি কোটি টাকার লোহিতকণিকা ও প্লাজ়মা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে বিক্রি করেছে।
-
প্লাজ়মার বাণিজ্যিকীকরণ: এক একটি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে ১৬ থেকে ২৮ হাজার ইউনিট পর্যন্ত সংগৃহীত প্লাজ়মার সিংহভাগই চড়া দামে বেআইনিভাবে ভিন্রাজ্যের ফার্মাসিউটিক্যালস সংক্রান্ত বাজারে পাঠিয়ে মোটা টাকা মুনাফা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অসুস্থ ৪০ জন পড়ুয়া! নুনের বদলে গুঁড়ো সাবান মিড-ডে মিলে
রক্তদান শিবিরে উপহারের হাতছানি ও পরিকাঠামোগত অনিয়ম
-
প্রলোভন ও আর্থিক লেনদেন: সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বদলে বেশি উপহারের আশায় আয়োজকেরা বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে ডাকতেন। রক্তদাতাদের আকর্ষণ করতে প্রেশার কুকার, ফ্যান, স্মার্ট ওয়াচ বা কুপন উপহার দেওয়ার মতো বেআইনি ঘটনা ঘটেছে।
-
কম বয়সিদের রক্ত সংগ্রহ: দুর্গাপুরে নিয়ম ভেঙে ১১ ও ১৩ বছর বয়সি নাবালকদের শরীর থেকেও রক্ত নেওয়া হয়েছে।
-
মান নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার গাফিলতি: নির্দিষ্ট মাপের পাউচে অতিরিক্ত রক্ত নেওয়া, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক না থাকা এবং এমবিবিএস চিকিৎসকের বদলে ডাক্তারি পড়ুয়াদের দিয়ে রক্ত সংগ্রহের ঘটনাও অডিটে সামনে এসেছে।
ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
পশ্চিমবঙ্গে সারা বছর প্রায় ১০ লক্ষ ইউনিট রক্তের চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত রক্তদান হয়। কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির এই বেআইনি বাণিজ্যিক কারবারের খবর সামনে আসায় সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা ও রক্তদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভাঁটা পড়তে পারে বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা।


