Tuesday, 30 June, 2026
30 June
Homeআন্তর্জাতিক নিউজEurope: ৪০ ডিগ্রির নরককুণ্ড; ইউরোপের বুক চিরে বইছে লু 

Europe: ৪০ ডিগ্রির নরককুণ্ড; ইউরোপের বুক চিরে বইছে লু 

এই মুহূর্তে ইউরোপের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই চরম আবহাওয়ার শিকার। বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো এবং হাসপাতালের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপীয় প্রশাসন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম কোপে ইউরোপ। গত রবিবার ইউরোপের একাধিক দেশের তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্করী দাবদাহের জেরে শুধুমাত্র ফ্রান্সেই এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া অ্যাট্রিবিউশন-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মানুষের তৈরি এই জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন ভয়ঙ্কর দাবদাহ হওয়া ‘আজকের দিনে কার্যত অসম্ভব’। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে ইউরোপের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই চরম আবহাওয়ার শিকার। বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো এবং হাসপাতালের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপীয় প্রশাসন। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই এখন ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক ও নীতিগত লড়াই, ‘এসি কি বিলাসী বস্তু নাকি বেঁচে থাকার অধিকার?’

আরও পড়ুনঃ ‘স্যাঁটা’ মন্তব্য! মুখ্যমন্ত্রী সাবধান করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ; ‘অ্যাকশন’ পুলিশের

আমেরিকা বা এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপে এসির ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য। ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবারে এসি রয়েছে। বিশেষ করে ফরাসিরা এসি ব্যবহারকে কিছুটা ‘মার্কিন বিলাসিতা’ বা দৃষ্টিকটু হিসেবেই দেখতেন। ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপের মানুষের ধারণা ছিল, এসির কৃত্রিম ঠান্ডা হাওয়া শরীরকে অসুস্থ করে তোলে। তাছাড়া প্রাচীন ইউরোপীয় স্থাপত্যের মোটা পাথরের দেয়াল ও কাঠের জানলা ঘরকে প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা রাখত।

তবে আবহাওয়াবিদ বিশেষজ্ঞরা মূলত তিনটি প্রধান কারণে ইউরোপে এসির প্রসার না হওয়ার কথা জানিয়েছেন:

. ভৌগোলিক স্থাপত্যগত নকশা: দক্ষিণ ইউরোপের (ইতালি, স্পেন, গ্রিস) দেশগুলো গরম সামলাতে হালকা রঙের বাড়ি এবং সুপরিকল্পিত ভেন্টিলেশন তৈরি করলেও, উত্তর ইউরোপের দেশগুলো তৈরি হয়েছিল শীতকালে ঘর গরম রাখার প্রযুক্তি দিয়ে। ফলে প্যারিসের মতো শহরের আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের জিংকের ছাদ গ্রীষ্মের তাপে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নরককুণ্ডে পরিণত হচ্ছে।

. অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল: ইউরোপে বিদ্যুতের দাম আমেরিকার চেয়ে বহুগুণ বেশি। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া শক্তি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ বিল সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।

. পরিবেশগত নীতি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোটি কোটি এসি চললে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেবে, যা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। একই সাথে এসির গরম হাওয়া শহরের বাইরের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।

আরও পড়ুনঃ টাইব্রেকারে মহাবিপর্যয়! জার্মানির ন্যায্য গোল বাতিল!

এসি নিয়ে কেন দ্বিধাবিভক্ত ইউরোপের রাজনীতি?

ইউরোপের তাপমাত্রা বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এক প্রজন্ম আগে যে গ্রীষ্মকাল ছিল মনোরম, আজ তা রূপ নিয়েছে নীরব ঘাতকে। বয়স্ক, শিশু ও দিনমজুররা এই গরমে সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছেন। আর এই স্বাস্থ্যসংকটই এখন ভোটের রাজনীতিতে অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থী দল ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ (নেত্রী মারিন ল্য পেন)-র তরফ থেকে একটি জাতীয় এসি পরিকল্পনার ঘোষণা করা হয়েছে। তারা সমস্ত স্কুল ও হাসপাতালে সরকারি খরচে এসি বসানোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়িতে এসি লাগানোর জন্য ২০ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ২২.৭ বিলিয়ন ডলার) সুদমুক্ত ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। অন্যদিকে ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টিও এসির চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করছে।

বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবোড’-সহ পরিবেশবিদরা এই এসি-বিপ্লবের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, এসি লাগালে সাময়িক স্বস্তি মিললেও তা জলবায়ু সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সরকারের উচিত এসি না বাড়িয়ে ঘরবাড়ির ইনসুলেশন উন্নত করা, শহরের বুক চিরে গাছ লাগানো এবং জলাশয় তৈরি করা।

এই দুই মেরুর দ্বন্দ্বে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু (WHO)-এর মতে, এটিকে রাজনৈতিক বিতর্ক না বানিয়ে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দেখতে হবে। আপদকালীন পরিস্থিতিতে দুর্বল ও অসুস্থ মানুষদের জন্য ঠান্ডা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যেমন জরুরি, তেমনই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের ওপর জোর দিতে হবে। ইউরোপের এই গ্রীষ্মের দাবদাহ প্রমাণ করে দিল যে, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সামনে আধুনিক সভ্যতা আজ কতটা অসহায়।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন