সোমবার দুপুরে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘অ্যাকশন’ শুরু পুলিশের। নওদার বিধায়ককে কার্যত কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘এটাই ওর শেষ বক্তব্য’। এরপর হুমায়ুন নানাভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়েই হুমায়ুনের সভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাতে রেজিনগর থানার লোকনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল শেখ ও কাশিপুর অঞ্চল এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তাফাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই মঞ্চে হুমায়ূন কবীর উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন বলে অভিযোগ, সেই সভার জন্য থানায় অনুমতি নিয়েছিলেন ধৃত আমিনুল। পরে শক্তিপুর থানা এলাকা থেকে আনিসুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৬ জুন রেজিনগরের সভা থেকে রীতিমতো সুর চড়িয়ে হুমায়ুন বিজেপির উদ্দেশে বলেছিলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব সেদিন এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব যে আপনাদের পতাকা বওয়ার লোক থাকবে না।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপিও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।” এই বক্তব্যের পরই এফআইআর দায়ের হয়।
আরও পড়ুনঃ এটা ভদ্রলোকেদের আইন নয়; বাংলায় পাস গুন্ডা দমন বিল
সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনাকে যারা ওই সভায় ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব, তারপর আপনার কাছে যাব। ধরে নিন এটা আপনার শেষ বক্তব্য।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যা খুশি বলা গেলেও, এবার যে ভাষা সংযত করতে হবে, তা বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। প্রশ্ন উঠেছে, তিন শাগরেদ তো গ্রেফতার হলেন, এবার কি তবে বিধায়ক হুমায়ুনকে গ্রেফতার করবে পুলিশ?
সোমবার হুমায়ুন ওই বক্তব্য নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “যারা এতদিন তৃণমূল ছিল, তারা আজ বিজেপির গুণ্ডা হয়েছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে বলেছি। কেউ কেউ বলছেন, আসলে ভয় পেয়েই হুমায়ুন এবার সুর নরম করছেন।”


