বিশেষ প্রতিনিধি, তারাপীঠ:
শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের পুণ্যলগ্নে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ড। ভোররাতে একটি বেসরকারি হোটেলে আচমকা আগুন লেগে পুড়ে ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে যেমন ঘুরতে আসা পর্যটক ও তারা মায়ের দর্শনে আসা পুণ্যার্থী রয়েছেন, তেমনই হোটেলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় অ্যালার্ট; বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী নিম্নচাপ, আজ তুমুল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস
ভোররাতের ভয়াবহতা ও আগুনের গতি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাপীঠ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরপাড় সংলগ্ন ওই বহুতল হোটেলে ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে তারা মায়ের পুজো দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের ভিড়ে হোটেলটি পূর্ণ ছিল।

ভোররাতে যখন বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন এক তলার বিদ্যুৎ সরবরাহের এমসিবি (MCB) বা মূল বিদ্যুতের প্যানেলে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। শর্ট সার্কিট থেকে শুরু হওয়া আগুন দেখে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও তা নিমেষের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সিঁড়ি ও অন্দরে থাকা প্রচুর ফাইবারের সাজসজ্জা এবং দাহ্য পদার্থের কারণে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দাবানলের মতো ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে।
দ্রুত উদ্ধারকার্য ও হতাহত
হোটেলের ঠিক পাশেই থানা থাকায় আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাপীঠ থানার পুলিশ বাহিনী ও দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা জানালার কাঁচ ও ফাইবারের অংশ ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করার কাজ শুরু করেন।

উদ্ধারকারী দল ভেতরে ঢুকে দেখতে পান অনেকেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বেশ কিছুটা অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসনালীতে প্রবেশের কারণে অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সাগরে বিপন্ন মার্কিন সেনাদের জীবন; নেই খাবার, জল
তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসন
ঘটনার পর থেকেই হোটেল চত্বর ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি ভিত্তিতে বেরোনোর পথ (Emergency Exit) সঠিক ছিল কি না, এবং শর্ট সার্কিট ব্যতীত অন্য কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দমকল বিভাগ ও পুলিশের ফরেনসিক দল যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। ভক্ত ও পর্যটকদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে সমগ্র তারাপীঠ ও বীরভূম জেলা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।


