Monday, 25 May, 2026
25 May
HomeকলকাতাMamata Banerjee: ভরাডুবির পর কি আবার ‘দিল্লি-মুখো’ মমতা?

Mamata Banerjee: ভরাডুবির পর কি আবার ‘দিল্লি-মুখো’ মমতা?

বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর, এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র, কলকাতা

সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর, এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে, যবনিকা টেনে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় আসতেই, বাংলার রাজনৈতিক মহলে এক নতুন সমীকরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অস্তিত্বের সংকটে মুখে পড়ে কি ‘বিজেপি-র শরণ’?

প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও দলের ভবিষ্যৎ রক্ষায়, ফের একবার বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন? নির্বাচনের ক্রান্তিলগ্নে তিনি যেভাবে বাম এবং কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে মোদী-শাহ জুটির বিরুদ্ধে একটি যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বর্তমান যে পরিস্থিতি গড়ে উঠেছে, তার আশা এখন কার্যত শূন্য বলেই মত, রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুনঃ জারি হল হিট স্ট্রোক নিয়ে সতর্কতা; প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ

ভেস্তে গেল ‘বিজেপি-বিরোধী’ জোটের আশা!

সিপিএম ও কংগ্রেসের বঙ্গীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের সঙ্গে কোনো স্তরেই আসন সমঝোতা বা রাজনৈতিক জোট সম্ভব নয়। বাম ও কংগ্রেস শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যে তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং জনবিচ্ছিন্নতা, যার দায় অন্য কোনো দল নিজেদের কাঁধে নেবে না। এই অনমনীয় মনোভাবের জেরে তৃণমূল সুপ্রিমোর সামনে ‘মহাজোট’ গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নিজের বর্ণময় পলিটিক্যাল কেরিয়ার ও দলের অস্তিত্ব বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে দিল্লির দরবারে কড়া নাড়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

সায় দেবে কি রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব?

কালীঘাট সখ্যতার হাত বাড়াতে চাইলেই যে, গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? সেটা নিয়ে বড়সড় সংশয় রয়েছে। সুকান্ত মজুমদার বা শুভেন্দু অধিকারীদের মতো রাজ্য বিজেপি নেতারা, তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াই করে আজ এই সাফল্যের মুখ দেখেছেন। ফলেই, মমতার সঙ্গে কোনো রকম গোপন বা প্রকাশ্য সমঝোতার বার্তা নিচুতলার কর্মীদের মনোবলকে, ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বও বাংলায় একক ক্ষমতায় সরকার গড়ার পর, এক ক্ষয়িষ্ণু ও জনবিক্ষোভের মুখে পড়া শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের ‘দুর্নীতিমুক্ত’ ও ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তি নষ্ট করার ঝুঁকি, সহজে নিতে চাইবে না বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুনঃ আসছে সুপার এল নিনো; চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

বঙ্গের জনমানসে এর প্রভাব!

সর্বোপরি, এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ বঙ্গের জনমানসে অত্যন্ত নেতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। যে কট্টর বিজেপি-বিরোধী ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে তৃণমূল এতকাল রাজনীতি করেছে, এই পদক্ষেপের ফলে তারা সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ হবে; অন্যদিকে ‘পরিবর্তনের’ আশায় যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরাও চরম প্রতারিত বোধ করবেন।

ফলে, বাম-কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের পর নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা বাংলার জনমানসে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে হারিয়ে ফেলার এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন