উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির পানিট্যাংকি সীমান্ত চেকপোস্টে বড়সড় একটি জালিয়াতির চক্রের সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দুই থাই মহিলা নাগরিক জাল ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পযুক্ত নথিপত্র ব্যবহার করে ভারত ছাড়ার চেষ্টা করায় গ্রেফতার হয়েছেন। সঙ্গে আটক হয়েছেন এক ভারতীয় ড্রাইভারও। ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান ও জালিয়াতি চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আটক দুই থাই নারী হলেন পিমচানোক কেতলা ও চিন্তারা বুদ্ধাপং। তাঁদেরকে গতকাল পানিট্যাংকি সীমান্ত চেকপোস্টে আটক করে ৪১তম ব্যাটালিয়ন এসএসবি (রানিডাঙ্গা)। তাঁদের কাছ থেকে যে নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, তাতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পগুলো স্পষ্টতই জাল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। নারীরা নেপাল হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কয়েক মিনিটে তছনছ হয়ে বদলে গেল শহরের চেহারা! থমকে গেল মেট্রো থেকে ট্রেন
এসএসবি জওয়ানরা যখন তাঁদের গাড়িটি তল্লাশি করেন, তখনই সন্দেহজনক নথিপত্র চোখে পড়ে। গাড়ির চালক কুলদীপ শর্মা নামে এক ভারতীয় যুবকও আটক হয়েছেন। তাঁকে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এসএসবি সূত্র জানিয়েছে, তিনজনকে পরে খড়িবাড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ তাঁদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা শুধু দুই নারীর ঘটনা নয়। পুরো একটা র্যাকেটের অংশ হতে পারে।
আমরা জাল স্ট্যাম্প তৈরির উৎস, কারা এই নারীদের সাহায্য করেছে এবং কতজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবকিছু খতিয়ে দেখছি।” তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুই থাই নারীর ফোন, ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র জব্দ করে বিস্তারিত পরীক্ষা চলছে। তাঁদের ভারতে কতদিন ছিলেন, কী উদ্দেশ্যে এসেছিলেন এবং কারা তাঁদের জাল নথি দিয়েছিল এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পানিট্যাংকি সীমান্ত ভারত-নেপাল সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট।
আরও পড়ুনঃ নতুন সরকার, নতুন বাংলা; বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে আমুল
এখান দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাল নথি, মানুষ পাচার ও মাদক চোরাচালানের ঘটনা বেড়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। এই ঘটনার পর এসএসবি ও পুলিশ যৌথভাবে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে।অনেকে মনে করছেন, এই চক্রের পিছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক থাকতে পারে যারা বিদেশি নাগরিকদের জাল কাগজপত্র দিয়ে সাহায্য করে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, দুই থাই নারী সম্ভবত পর্যটক হিসেবে ভারতে এসেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁদের ভিসা বা অন্যান্য কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপর জাল স্ট্যাম্প লাগিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কুলদীপ শর্মা তাঁদের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর ভূমিকা কতটা গভীর তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



