ভারতের আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিল জাপান। পেস্ট-কন্ট্রোল ও জীবাণুমুক্তকরণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে ভারত থেকে তাজা আম আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাপান। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গরমের মরসুমে জাপানে রপ্তানি হওয়া প্রিমিয়াম ভারতীয় আমের উপর। আলফানসো, কেসর, ল্যাংড়া, বাঙ্গানাপল্লি-সহ একাধিক জনপ্রিয় জাতের আম এখন রপ্তানি অনিশ্চয়তার মুখে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে উদ্বেগ! ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ
সংবাদসূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত একটি Vapour Heat Treatment বা VHT কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জাপানি কোয়ারান্টিন আধিকারিকেরা। বিদেশে রপ্তানির আগে আমকে পোকামাকড়মুক্ত ও নিরাপদ করার জন্য এই কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ তাপপ্রয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সেই পরিদর্শনের সময় ফিউমিগেশন এবং জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ত্রুটি ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসে। এরপরই জাপানের সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থা ভারতীয় আম আমদানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সূত্রে এমন দাবি করা হয়নি যে ভারত থেকে পাঠানো আমের মধ্যে সরাসরি ফলমাছি বা অন্য কোনও পোকা ধরা পড়েছে। অভিযোগের মূল বিষয় হল নির্ধারিত কোয়ারান্টিন ও পেস্ট-কন্ট্রোল প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন। ফলে বিষয়টি মূলত প্রক্রিয়াগত মান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাপান কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড মেনে চলে। বিশেষ করে ফলমাছির মতো আক্রমণকারী পোকামাকড় নিয়ে দেশটি জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। সেই কারণে রপ্তানির আগে আমের উপর বিশেষ তাপপ্রয়োগ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মে সামান্য ঘাটতিও জাপানের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
রপ্তানিকারকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। এপ্রিল থেকে জুন মাস ভারতীয় আম রপ্তানির শীর্ষ মরসুম। ঠিক সেই সময়ে জাপানের বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এমনিতেই এ বছর গরমের তীব্রতা, উৎপাদন সমস্যা এবং পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চাপে ছিলেন অনেক রপ্তানিকারক। তার উপর এই নতুন বাধা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ অসমেও শুকোল ঘাসফুল! দল থেকে পদত্যাগ অভিজিৎ মজুমদারের
প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই জাপানের প্রথম বড় ধরনের আম-আমদানি স্থগিতাদেশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফলমাছি সংক্রান্ত উদ্বেগে ভারতীয় আমের উপর দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরে ভারত প্রক্রিয়াগত মান উন্নত করার পর ২০০৬ সালে সেই বাধা তুলে নেওয়া হয়।
এখন ভারত ও জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলার সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানিকারক মহলের আশা, প্রযুক্তিগত আপত্তিগুলি দ্রুত সমাধান করা গেলে আবারও জাপানের বাজারে ভারতীয় আমের প্রবেশাধিকার ফিরতে পারে। তবে আপাতত দেশের অন্যতম মূল্যবান বিদেশি বাজারে আম রপ্তানি থমকে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে চাষি, ব্যবসায়ী এবং রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলে।



