বিধানসভার সই বিতর্কের তদন্তে শনিবার দুপুরে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান সিআইডি-র ৫ জন আধিকারিক। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ওই সময়ে তিনি ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে ফিরেন। তখন তাঁকে সিআইডি হানা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়ে দেন, তিনি শান্তিনিকেতনে থাকেন না। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের বাড়িতে আসতে হবে।
আরও পড়ুনঃ সই জাল কাণ্ডে বেকায়দায় অভিষেক! CID অভিযান শান্তিনিকেতনে
২৬-এর নির্বাচনের ভরাডুবির পর শনিবার প্রথমবার পথে নামার কর্মসূচি নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই কর্মসূচি শুরুর আগেই দেখা যায়, তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডি-র আধিকারিকরা। তবে ১৮৮এ শান্তিনিকেতন – এই ঠিকানায় গিয়ে অভিষেকের দেখা পাননি তদন্তকারী অফিসাররা। এইভাবে আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি-র চোখে ধুলো দিয়েছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, তাঁর শনিবারের কর্মসূচির কথা আগে থেকেই জানা গেছিল। কিন্তু তিনি কখন বাড়ি থেকে বেরোলেন, আদৌ তিনি সেই বাড়িতে ছিলেন কিনা, সেটাও সিআইডি স্পষ্টত জানতে পারেনি। পরে অবশ্য অভিষেক নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানান, শান্তিনিকেতন-এ তিনি থাকেন না।
শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি সিআইডি দল অভিষেকের শান্তিনিকেতনের ঠিকানায় যায়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাব সংক্রান্ত নথিতে বিভিন্ন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে ওঠা বিতর্কের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সেই সময় অভিষেক সেখানে ছিলেন না। তিনি তখন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
পরে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে।” সিআইডি কেন এসেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল নেতা জানান, তাঁর কাছে কোনও নোটিস পৌঁছয়নি। তিনি বলেন, “কেন সিআইডি এসেছে, আমি জানি না। কোনও নোটিস পাইনি। ইডি-সিবিআইয়ের কাছে মাথা নত করিনি, সিআইডি কী?”
আরও পড়ুনঃ পরিবর্তনের রাজ্যে পুরনিগম বোর্ডে প্রথম ভাঙন! মেয়রহীন চন্দননগর
এখানেই থেমে থাকেননি অভিষেক। তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইনি পথে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, “এই বিষয়ে মামলা করব, আদালতের দ্বারস্থ হব।” কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক আরও বলেন, “দশ পুরুষও যদি চেষ্টা করে, ইডি, সিবিআই, পুরসভা বা বাড়ি ভাঙার নোটিস – যা খুশি করুক, আমি দমে যাওয়ার লোক নই।”
সূত্রের খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেই চিঠিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু স্বাক্ষর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াতেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।



