মালদা সফরে এসে একাধারে যেমন পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি, তেমনই অন্যদিকে দেশের স্কুল পাঠ্যসূচিতে শিখ গুরুদের আত্মবলিদানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি তুললেন। পুরাতন মালদা পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুদুয়ারায় গিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের নবম ধর্মগুরু তেগ বাহাদুর সিং-এর ৩৫০তম শহীদ দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। পরে কালাচাঁদ হাইস্কুলে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় যোগ দেন এবং ইংরেজবাজার ব্লকের মহদিপুর এলাকার ঐতিহাসিক রামকেলি ধামেও যান। ভারত সরকারের ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূল’ তুমি কার? মমতা না ঋতব্রত!
“আমরা শাস্ত্রেও থাকব, সশস্ত্রও থাকব”: পাকিস্তানকে কড়া বার্তা রাজ্যপালের
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নিরাপত্তা নিয়ে সুর চড়ান রাজ্যপাল আর. এন. রবি। পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছোট্ট একটা দেশ পাকিস্তান আমাদের কাশ্মীরের একটা অংশ দিনের পর দিন দখল করে বসে আছে, আর আমরা রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) দোহাই দিয়ে বসে আছি। ২৬/১১-র হামলায় ওরা দেশকে অপমান করেছিল।”
তবে মোদী সরকারের জমানায় ভারতের নীতি যে বদলেছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ওরা যখন পুলওয়ামা করেছে, তখন আমরা বালাকোট করেছি, সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছি। আমরা শাস্ত্রেও আগে থাকব, আবার সশস্ত্রও থাকব। আর এই সংস্কৃতিতে শিখ গুরুরা বড় ভূমিকা নিয়েছেন।” চারপাশের বর্তমান পরিবেশকে ‘চিন্তাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নামে ভারতকে বিভাজন করা হয়েছে।
‘কাফের‘ তত্ত্ব ও কাশ্মীরী ব্রাহ্মণদের ইতিহাস
ভারতের সনাতন সংস্কৃতির উদারতার কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতিতে আমরা সবাইকে বন্ধু ভাবি। এই সংস্কৃতিতে কাউকে ‘কাফের’ ভাবা হয় না। যারা এমনটা ভাবে, তারা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গই নয়।” ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে যখন কাশ্মীরী ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হচ্ছিল, তখন গুরু তেগ বাহাদুর রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব তাঁকে ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও তিনি মাথা নত করেননি। ফলস্বরূপ ঔরঙ্গজেব তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে। রাজ্যপালের অভিযোগ, “এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ক্রমাগত ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু আমাদের তা ভুলে গেলে চলবে না।”
আরও পড়ুনঃ মিড ডে মিলে কি ডিম থাকবে? মুখ খুলল ইসকন
স্কুল পাঠ্যসূচিতে শিখ গুরুদের জীবনী রাখার প্রস্তাব
দেশ ও ধর্ম রক্ষার লড়াইয়ে শিখ গুরুদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বড়সড় প্রস্তাব দেন রাজ্যপাল। তিনি স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুলে দেশ ও ধর্ম রক্ষার খাতিরে গুরু গোবিন্দ সিং, গুরু তেগ বাহাদুর সিং সহ সমস্ত শিখ ধর্মগুরুদের আত্মজীবনী এবং তাঁদের চরম আত্মবলিদানের কাহিনী পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
মোদীর অর্থনৈতিক নীতির ভূয়সী প্রশংসা
দেশের বর্তমান অর্থ ব্যবস্থার উন্নতির খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের দশম স্থানে ছিল। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার গঠন হতেই ধীরে ধীরে দেশের অর্থ ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে থাকে। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নেতৃত্বের কারণেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থ ব্যবস্থা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।”


