কলকাতা:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Kolkata International Airport) অবতরণের ঠিক মুখে ফের লেজার আলোর (Laser Light) দাপটে বিপদের মুখে পড়ল একটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান। ককপিটে হঠাৎ তীব্র লেজার লাইটের ঝলকানিতে পাইলটের দৃষ্টিভ্রম ঘটে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে অবতরণ ব্যর্থ হয়ে বিমানটিকে আকাশে কিছুক্ষণ চক্কর কাটতে হয়। পরে চালকের তৎপরতায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করে।
আরও পড়ুনঃ দেখলে মাথা ঘুরে যাবে! বিরাট পরিকল্পনার ঘোষণা রেলের
ঘটনার বিবরণ
বিমানবন্দর ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:
-
সংশ্লিষ্ট বিমান: কুয়ালালামপুর থেকে আকাশপথে আসা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১৮৪ (MH-184) বিমান।
-
যাত্রী সংখ্যা: বিমানটিতে প্রায় ১৫৯ জন যাত্রী এবং ৭ জন কেবিন ক্রু মিলিয়ে ১৬৬ জন আরোহী ছিলেন।
-
যেভাবে ঘটে বিপত্তি: শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ বিমানটির কলকাতায় নামার কথা ছিল। রানওয়ে থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে মধ্যমগ্রাম ও বারাসতের ভৌগোলিক দিক থেকে উড়ে আসা তীব্র লেজার রশ্মি সরাসরি বিমানের ককপিটে এসে পড়ে।
-
জরুরি পদক্ষেপ: লেজারের আলোয় পাইলটের দৃষ্টি বিঘ্নিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ল্যান্ডিং না করে তিনি বিমানটিকে আকাশে চক্কর (Looping) কাটাতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ১৯এল (19L) রানওয়েতে নিরাপদ অবতরণ করানো হয় এবং ৫৭এল (57L) পার্কিং বে-তে স্থানান্তরিত করা হয়।
আরও পড়ুনঃ আজ সেই নৃশংস ঘটনার ২ বছর: তিলোত্তমার পরিবার ও সিবিআইয়ের নতুন তদন্তে চাপ বাড়ছে
আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনার পরই চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাটি:
-
অভিযোগ দায়ের: বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এর ভিত্তিতে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এনএসসিবিআই (NSCBI) বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
-
এলাকা চিহ্নিতকরণ: লেজার লাইট কোথা থেকে নির্দিষ্টভাবে ফেলা হয়েছিল, তা চিহ্নিত করতে মধ্যমগ্রাম ও বারাসত সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন
কলকাতা বিমানবন্দরের আশেপাশের এলাকাগুলিতে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব বা উদযাপনে নিয়মিত লেজার লাইট ব্যবহার করা নিয়ে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। তা সত্ত্বেও ঘনঘন লেজার আলো ফেলে বিমানের অবতরণে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। বিমান চালক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অবহেলাজনিত এই ধরনের ঘটনা যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় বিমান দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


