বিশেষ প্রতিনিধি:
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর উদ্যোগে কলকাতার রুবি মোড়ে আয়োজিত এবারের দুর্গাপূজার থিম রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মহাসভার এবারের থিম—”নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন, বুবাইয়ের জয়যাত্রা”। আয়োজকদের দাবি, এই বিশেষ থিমের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সাফল্যকে মণ্ডপে তুলে ধরা হবে।

এই পূজা উপলক্ষে হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুনঃ দুর্গাপূজার এক মাস আগেই অকাল আবাহন! দুর্গাপুরের রূপগঞ্জে ঘোষ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘ভগবতী পূজা’
শান্তিকুঞ্জে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রধান অতিথির আমন্ত্রণ
সম্প্রতি হিন্দু মহাসভার উদ্যোক্তারা কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ গিয়ে তাঁর পিতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিক শিশির অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

-
শুভচ্ছাবার্তা ও উপহার: আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিশির অধিকারীকে পূজার প্রধান অতিথি (Chief Guest) হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁর হাতে পূজার নিমন্ত্রণপত্র, মিষ্টান্ন ও হিন্দু মহাসভার উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়।

-
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: শিশির অধিকারী হিন্দু মহাসভার এই সৌজন্যকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং উত্তরীয় ও উপহার মাথায় ঠেকিয়ে ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীসহ প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ ও পূজার শুভকামনা জানান।
থিম ভাবনা ও আয়োজনের রূপরেখা
পূজার ভাবনা ও ঐতিহ্য প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী জানান:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | আয়োজনের রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য |
| রাজনৈতিক থিম | শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা সংগ্রাম—বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সাফল্য শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে প্রজেক্টরে মণ্ডপে দেখানো হবে। |
| প্রতিমা নির্মাণ | প্রতিমার মূর্তিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেবীমূর্তি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে কালীঘাটের ঐতিহাসিক ‘হিন্দু মহাসভা ঘাট’-এর মাটি। |
| নাগরিক বার্তা | দেশ-বিদেশের শুভেন্দুপ্রেমী নাগরিকরা যদি কোনো বার্তা দিতে চান, তা হিন্দু মহাসভার মাধ্যমে সংগ্রহ করে পৌঁছে দেওয়া হবে। |
সরকারি অনুদানের আবেদন
সাংগঠনিক আলোচনার মাঝে ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী পূজার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাত্র কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিলের ওপর নির্ভর করেই এই পূজার আয়োজন করা হয়। ফলে বাজেট অত্যন্ত সীমিত। তিনি রাজ্য সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানান, যাতে হিন্দু মহাসভার এই বিশেষ পূজায় সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়।

কাঁথির এই সৌজন্য সাক্ষাতে ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাসভার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতিনিধি অনামিকা মণ্ডল, সন্দীপন সরকার, বিদ্যাভূষণ সিং, অসীম রায়, মৃত্যুঞ্জয় বালা ও কৌশিক গাঙ্গুলীসহ একাধিক সদস্য।


