Wednesday, 23 September, 2026
23 September
HomeদেশEC: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তীব্র নজিরবিহীন মতবিরোধ! ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি...

EC: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তীব্র নজিরবিহীন মতবিরোধ! ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি দুই নির্বাচন কমিশনারের

এই নজিরবিহীন বিরোধ নিশ্চিতভাবেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:

ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া, নতুন ভোটারের ফর্ম পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম পুনর্বহাল সংক্রান্ত আপিল—নির্বাচন কমিশনের (ECI) একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংঘাত। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিতভাবে নিজেদের তীব্র আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁদের না জানিয়েই এককভাবে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কিছু পদক্ষেপকে তাঁরা সরাসরি ‘অননুমোদিত’ (unauthorised) এবং ‘বেআইনি’ (illegal) বলেও চিহ্নিত করেন।

আরও পড়ুনঃ  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অমঙ্গল সংকেত! ‘অ্যালার্ট মোডে’ NATO

বিতর্কের প্রধান বিষয়সমূহ

প্রতিবেদনটি দিল্লি, কলকাতা, গোয়া ও মুম্বইয়ের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ আদান-প্রদানের নথির ভিত্তিতে তৈরি। অভ্যন্তরীণ বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দুগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বিতর্কের বিষয় দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি ও পর্যবেক্ষণের বিবরণ
নতুন ভোটারের Form 6 পরিবর্তন জুলাই মাসে Form 6-এ নতুন প্রশ্ন যুক্ত করে আবেদনকারীর পূর্বপুরুষদের নাম আগের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR)-এ ছিল কি না তা জানতে চাওয়া হয়। এর আগে মে মাসেই বিবেক জোশী ও সান্ধু মত দেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম সংশোধন ছাড়া এই পরিবর্তন বেআইনি। ১৩ আগস্ট সান্ধু এই পদক্ষেপকে ‘unauthorised and illegal’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা সরানোর লিখিত নির্দেশ দেন।
ডেটাবেসের কেন্দ্রীয়করণ (Centralisation) বিধানসভা ভিত্তিক Electoral Registration Officer (ERO)-দের অধীনে থাকা বিকেন্দ্রীভূত ভোটার ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয়ভাবে হস্তগত করার অভিযোগ তোলেন জোশী। অগস্টে সান্ধুও অভিযোগ করেন যে রাজ্য স্তরের নির্বাচন আধিকারিকদের ERONet-এ সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গে ১৬.১০ লক্ষ ভোটারের বিরুদ্ধে আপিল পশ্চিমবঙ্গে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারা অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৬.১০ লক্ষ ভোটারের বিরুদ্ধে কার নির্দেশে ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সান্ধু। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি, জোশী বা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—কেউই এই আপিলের অনুমোদন দেননি।
গোয়ায় সফটওয়্যার সমস্যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গোয়ায় ERO-রা ৯৭ জন নাগরিককে ভোটার তালিকার যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করলেও, কমিশনের সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় আপডেট সময়মতো না হওয়ায় তাঁরা চূড়ান্ত ভোটার তালিকার বাইরেই থেকে যান।

সাংবিধানিক প্রশ্ন ও আইনি জটিলতা

ভারতের সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners Act, 2023-এর ১৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের (Majority) মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিনজন সদস্যের মধ্যে দুইজন নির্বাচন কমিশনার যখন একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং এক দিনেই চার বার পর্যন্ত লিখিত আপত্তি জানান, তখন সেই সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে কার্যকরী হলো—তা নিয়ে বড়সড় আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। IT ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, দুই নির্বাচন কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবের কাছেও বিষয়টি আলাদাভাবে তুলেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপূজার এক মাস আগেই অকাল আবাহন! দুর্গাপুরের রূপগঞ্জে ঘোষ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘ভগবতী পূজা’

কমিশনের প্রতিক্রিয়া

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর পক্ষ থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশীর কাছে এই আপত্তিগুলোর বিষয়ে লিখিত প্রশ্নপত্র পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো তরফ থেকেই উত্তর পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অন্দরে এই নজিরবিহীন বিরোধ নিশ্চিতভাবেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন