কোচবিহার:
‘কাটমানি’ বিতর্ক এবং তৃণমূলের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের শীতলকুচির ছোট শালবাড়ি এলাকা। দলীয় কর্মসূচিতে দলেরই শীর্ষ নেতাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপির একাংশ ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নেতাদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পচা ডিম, চালানো হয় মারধর!

ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দেশি ধানের চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা; শিলিগুড়ির উত্তর পলাশে জৈবিক চাষে ফিরছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনার কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি এলাকার পঞ্চারহাট বাজার সংলগ্ন স্থানে এই গোলমালের সূচনা হয়। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের মূল অভিযোগ দুটি:
-
তৃণমূলের সাথে আঁতাত: স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের সাথে বিজেপির কয়েকজন নেতা বৈঠক করছিলেন ও তাঁদের সাহায্য নিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছিলেন।
-
কাটমানি দুর্নীতি: এলাকার বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে কাটমানি বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা।
আরও পড়ুনঃ ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে ‘দুষ্কৃতী’ যেন ছাড় না পায়! বলল সুপ্রিম কোর্ট
নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ও মারধর
ক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পবিত্র অধিকারী, সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী বিউটি বর্মণ এবং প্রাক্তন আহ্বায়ক কনক বর্মণ।
-
ক্ষুব্ধ কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন এবং নেতাদের ঘিরে ধরে পচা ডিম ছুঁড়তে থাকেন।
-
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়।
-
পুলিশ যখন অভিযুক্ত নেতাদের উদ্ধার করে পুলিশ গাড়িতে তুলছিল, তখনও তাঁদের ওপর ডিম বৃষ্টি চালানো হয়। হাতাহাতিতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সাফ বক্তব্য:
“এলাকায় কাটমানি খেয়ে রাজনীতি করা চলবে না। কোনো নেতা দুর্নীতি করলে তাঁকে ছোট শালবাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আমরা কোনো অবস্থাতেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের সাথে নিয়ে দল চালাতে দেব না।”
বিধায়কের প্রতিক্রিয়া
দলের অভ্যন্তরীণ এই ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ঘটনায় শীতলকুচির বিজেপি বিধায়ক সাবিত্রী বর্মণ জানান, পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্মে নানা সমস্যা হচ্ছিল, তা মেটাতেই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ার ফলেই এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে, তবে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।


