Wednesday, 24 June, 2026
24 June
HomeকলকাতাTaratala: সকাল থেকেই দুলছিল TMC ঘনিষ্ঠ আসগর খানের গুদামের ছাদ; সামাল দিতে...

Taratala: সকাল থেকেই দুলছিল TMC ঘনিষ্ঠ আসগর খানের গুদামের ছাদ; সামাল দিতে নির্মাণকর্মীরা ভিতরে ঢোকেন, তার পরেই বিপর্যয়

গুদামটির নির্মাতা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আসগর খান

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

লোহার বিমের ওপরে ছাদ ঢালাই। সেই ভার নিতে না পেরেই ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ তিন তলা গোডাউনটি। তারাতলা ব্রেস ব্রিজের কাছে চায়ের গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। লোহা, টিন, কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল এই বিশাল গুদাম ঘরটি। বেআইনিভাবে এই নির্মাণটি তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কে বা কারা তৈরি করছিল এই অবৈধ গোডাউনটি? প্রকাশ্যে এসেছে নাম।

জানা গেছে, নির্মীয়মাণ এই গোডাউনের মালিক শম্ভু বেহরা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ডেভেলপার আসগর খান। বেহরা ব্রাদার্সের এই গুদামটির নির্মাণ করছিলেন এই আসগর। গত ছয়-সাত মাস ধরে গুদামঘরটির নির্মাণকাজ চলছিল।

আরও পড়ুনঃ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে বিপর্যয়, বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা; উদ্ধারকাজে সেনা

গুদামটির নির্মাতা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আসগর খান 
তারাতলার ব্রেস ব্রিজে ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে যে গুদামটি ভেঙে পড়েছে তা তৈরি হয়েছে কলকাতা বন্দর এলাকায়। বন্দরের থেকে লিজ নিয়ে এই জায়গায় গুদাম ঘর বানানোর কাজ শুরু হয়। তবে বন্দরের জমিতে লিজ নিতে হলে কলকাতা কর্পোরেশনের অনুমোদন লাগে। সেখান থেকে এনওসি শংসাপত্র মিললেই কোনও নির্মাণকাজ করা যায়। কলকাতা কর্পোরেশন এক্ষেত্রে এনওসি দিয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে নির্মাণটির নির্মাতা আসগর খানকে নিয়ে। বেহরা ব্রাদার্সের এই নির্মাণকাজ তিনিই চালাচ্ছিলেন বলে খবর। এই আসগর খুবই প্রভাবশালী ছিলেন বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, তিনি দক্ষিণ কলকাতার এক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠও ।

উল্লেখ্য, বেহেরা ব্রাদার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭০ সালে স্টোরেজ এবং ওয়্যারহাউজিং পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সংস্থা। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে তাদের গুদাম রয়েছে। প্রধানত চা-সহ বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। লজিস্টিকস এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই সংস্থা যুক্ত। 

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে পড়ে অনেকে জখম হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সকাল থেকেই দুলছিল নির্মীয়মাণ ওই কাঠামো। শ্রমিকেরা তা পরখ করতে গিয়েছিলেন। তার পরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লোহার বিম-সহ প্রায় পাঁচ তলা উঁচু ওই কাঠামো। কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান শ্রমিকেরা। নির্মাণেই কোনও গলদ ছিল কি না, প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্মাণকাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তারাতলায় কয়েক হাজার বর্গফুট বিস্তৃত এই জমির মালিকানা রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল। তারা অয়ন ট্রেডার্স নামের আর একটি সংস্থাকে গুদামটি তৈরির বরাত দেয়। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। বেহরা ব্রাদার্সের প্রতিনিধিদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পোর্ট মণ্ডল-১ প্রেসিডেন্ট প্রতীক পাণ্ডে বলেন, ‘‘এখানে একটা চায়ের গুদাম তৈরি হচ্ছিল। পাঁচ তলা বহুতলের কাজ চলছিল। অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন কাজ করতেন এখানে। ঘটনার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আমি এসে পৌঁছেছি। আমরা কয়েক জনকে উদ্ধারও করেছি।’’ পোর্ট মণ্ডল-২ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আসলে পুরো কাঠামোটাই দুলছিল। কেউ কেউ বলাবলি করছিল। সেটা শুনে ওরা (শ্রমিকেরা) দেখতে এসেছিল। তখনই হঠাৎ পুরোটা বসে যায়।’’ ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতীক। সামান্য চোট ছাড়া তাঁদের বড় কোনও আঘাত লাগেনি। তবে আরও পাঁচ থেকে ছ’জনকে উদ্ধার করা হয় গুরুতর জখম অবস্থায়।

আরও পড়ুনঃ অ্যাকশন পুলিশের, তামান্না খুনে আরও ২ জন গ্রেফতার; মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন মা সাবিনা

বিপর্যয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রিয়জনকে খুঁজতে আসেন অনেকে। এক যুবক জানান, তাঁর মাসি কাজ করছিলেন ওই গুদামে। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দু’ঘণ্টা ধরে তিনি মাসির খোঁজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, গুদাম তৈরির জন্য লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা অনেকেই জানাচ্ছেন, সকাল থেকে কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। তাঁরা সরে যাওয়ার সুযোগও পাননি। গুদামের ভিতরে শ্রমিকদের অনেকের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাই একসঙ্গে অনেকে চাপা প়ড়ে যান। ছিলেন মহিলারাও।

তারাতলার ঘটনায় উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। তা ছাড়া, দমকল, কলকাতা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। একাধিক হাইড্রোলিক ক্রেন সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্রেন দিয়ে লোহার বিম সরানোর চেষ্টা চলছে। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, খোঁজ নেওয়ার জন্য হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে চিৎকার করে ডাকছেন আধিকারিকেরা। ভিতর থেকে কেউ কেউ সাড়াও দিয়েছেন। গোটা গুদাম চত্বর জুড়ে কান্না আর হাহাকার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে প্রচুর অ্যাম্বুল্যান্স। অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

গুদাম ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। তিনিও ঘটনাস্থলে যেতে পারেন।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন