কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শিলিগুড়ির গঙ্গানগর এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের রহস্যজনক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।
তাঁদের মধ্যে বড় মেয়ে অঞ্জলি দাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, তাঁর কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী কারণে পরিবারের এতজন একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে নববধূর রহস্যমৃত্যু, গ্রেফতার স্বামী
ঘটনাটি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গানগর এলাকার। রবিবার সকাল থেকেই পরিবারের সদস্যদের একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখে প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের মা-ও বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁর সঙ্গে এখনও বিস্তারিতভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমপ্রকাশ যাদব জানান, পরিবারের তিনটি সন্তানই নিয়মিত স্কুলে যেত এবং সকলেই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করত। আগে কখনও তাঁদের কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যার কথা এলাকাবাসীর জানা ছিল না। তাই হঠাৎ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া সকলকেই চিন্তায় ফেলেছে।
পরিবারের সদস্য পায়েল দাস জানান, শনিবার রাতে বাড়িতে রুটি ও ভাজি রান্না করা হয়েছিল। তিনি নিজে সেই খাবার খাননি, তবে পরিবারের বাকি সদস্যরা ওই খাবারই খেয়েছিলেন। রবিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একে একে সকলের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রথমে বমি, দুর্বলতা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতে বড় বোন অঞ্জলি দাসের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্য নিকেতন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অঙ্কটা কী কঠিন! অঙ্ক শিখতে থলি হাতে বাজারে পড়ুয়ারা
বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পায়েলের দাবি, তাঁর মা এখন আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থ হলেও বড় বোনের অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটজনক। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাঁকে। তবে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
পরিবারের কর্তা কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত শিলিগুড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরও সক্রিয় হয়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়া, কোনও বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ অথবা অন্য কোনও স্বাস্থ্যজনিত কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।


