কাঠফাটা গরমের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন। আর এই মেঘ-বৃষ্টির মরসুমে উইকেন্ডে যদি কলকাতার কোলাহল থেকে দূরে, সবুজের কোলে দুটো দিন কাটিয়ে আসতে চান, তবে আপনার জন্য আদর্শ ঠিকানা হতে পারে ঝাড়গ্রাম। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রাম বর্ষাকালে রূপসী হয়ে ওঠে। শাল, পিয়াল, মহুল আর সেগুনের জঙ্গল এই সময়ে যেন নতুন কচি পাতার সবুজ চাদর গায়ে জড়িয়ে নেয়।
বর্ষায় কেন যাবেন ঝাড়গ্রাম?
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব মাত্র ১৫৪ কিলোমিটার। সড়কপথে বা ট্রেনে চেপে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই অরণ্যনগরীতে। বর্ষার দিনে এখানকার শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশ মনকে এক লহমায় সতেজ করে তোলে। চারিদিকের ঘন জঙ্গল, লাল মাটির পথ আর তার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি হয়। শহুরে যান্ত্রিকতা ভুলে যারা একটু নিরিবিলিতে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য ঝাড়গ্রামের বিকল্প মেলা ভার।
আরও পড়ুনঃ আনন্দ মাটি হতে পারে! বৃষ্টির রাতে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা খুব দরকার
কী কী দেখবেন?
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি: ইতিহাসের গন্ধ মাখা এই রাজবাড়ি ঝাড়গ্রামের প্রধান আকর্ষণ। বর্ষার মেঘলা আকাশে এই রাজপ্রাসাদের সৌন্দর্য আরও খোলতাই হয়। এর একটি অংশ এখন হেরিটেজ হোটেল, যেখানে আপনি রাজকীয় আমেজে রাত কাটাতে পারেন।
কনকদুর্গা মন্দির ও ডুলুং নদী: ঘন জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত প্রাচীন কনকদুর্গা মন্দির। মন্দিরের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে ডুলুং নদী। বর্ষায় ডুলুং নদীতে জলের প্রবাহ বাড়ে, আর চারপাশের জঙ্গল আরও রহস্যময় ও সবুজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির শব্দ আর নদীর কলতান এখানে এক অন্য জগৎ তৈরি করে।
চিলকীগড় রাজবাড়ি: কনকদুর্গা মন্দিরের একেবারে কাছেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি। প্রকৃতির মাঝে ইতিহাসের এই মেলবন্ধন দেখার মতো।
বেলপাহাড়ি ও ঘাটশিলা সংলগ্ন অঞ্চল: একটু বেশি সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত কিংবা তারাফেনী ব্যারেজ। বর্ষার মরসুমে ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার দৃশ্য এবং ঘাগরার পাথুরে খাঁজে আছড়ে পড়া জলের রূপ সত্যি মনোরম।
আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপ যখন নাকের ডগায়; ঝমঝম বৃষ্টিতে গরম গরম খিচুড়ি, পুরনো রেসিপি ছেড়ে এভাবে রাঁধুন
কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?
হাওড়া থেকে খড়গপুর হয়ে ঝাড়গ্রাম যাওয়ার একাধিক লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। এ ছাড়া গাড়ি নিয়ে বোম্বে রোড (NH-6) ধরে খড়গপুর পার হয়ে লোধাশুলি মোড় হয়ে সহজেই ঝাড়গ্রাম পৌঁছে যাওয়া যায়। থাকার জন্য ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজম প্রজেক্টের সরকারি লজ (আরণ্যক), অরণ্য সুন্দরী গেস্ট হাউস এবং বেশ কিছু বেসরকারি রিসোর্ট ও হোমস্টে রয়েছে।
শহরের কোলাহল, ট্রাফিক জ্যাম আর ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে ছুটি নিয়ে এই বর্ষায় একটা উইকেন্ড কাটিয়ে আসুন ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলে। মাটির সোঁদা গন্ধ আর শালবনের পাতার ওপর বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ আপনার ক্লান্তি দূর করতে বাধ্য।


