দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ উঠেছে । সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিলেন বামপন্থীরা । নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ৬-৭ জুলাই পথে নামছে সিপিএম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই, এসইউসিআইসি ছাত্র সংগঠন এইডিএসও (AIDSO) ।
আরও পড়ুনঃ অগ্নিগর্ভ বারুইপুর; নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন সিপিএম নেতা লায়েক আলি । একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি । তাঁর দাবি, দোষীদের স্থানীয়রা চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন । কিন্তু, এলাকার দুষ্কৃতী তথা বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয় ।
সিপিএম নেতা লায়েক আলি বলেন, “এলাকার এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, তারপর খুন করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয় । এলাকার মানুষ কয়েকজন অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের ক্যাম্পে দিয়ে আসে । কিন্তু এলাকার দুষ্কৃতী দিন কয়েক আগে বিজেপি নেতা হয়ে ওঠা শান্তনু মণ্ডলের নির্দেশে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয় । ফলে এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় নেমেছে । প্রতিবাদ জানিয়েছে । দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে । আইন আদালত যদি দোষীদের ফাঁসির শাস্তি দেয়, সেই একই শাস্তি শান্তনু মণ্ডলকেও দিতে হবে ।”
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে সিপিএম নেতারা আরও বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় এক রকম ভাষণ দিচ্ছেন, আর তার ঠিক উলটো কাজ করছেন তাঁর দলের কার্যকরতারা । এটাই কি আইনের শাসন?”
নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন এবং খুনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে AIDSO-এর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি । এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার সাধারণ মানুষ যে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের পাশে থেকে আন্দোলনকে আরও তীব্র করার আবেদন করছি । আমরা সংগঠনের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে 6-7 জুলাই রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিচ্ছি । আমরা পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রজনতাকে আরজি কর আন্দোলনের সেই দিনগুলো স্মরণ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথ দখল করে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি ।”
আরও পড়ুনঃ লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামে; পরম্পরা মেনে পালিত হল পাহাড় পুজো
উল্লেখ্য, রবিবার বারুইপুর থানা এলাকায় পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে । ওই নাবালিকা শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল । পরিবারের অভিযোগ, খাবার কেনার নাম করে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা । তারপরে চার অভিযুক্ত তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ । এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত ওই এলাকা । দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা । অভিযুক্ত সন্দেহ গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিয়োগ । আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । কিন্তু এই সামগ্রিক ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসীরা । বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে এলাকার বিজেপির একাংশ জড়িত রয়েছে ।


