তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন।
জামালপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে মমতা-স্মৃতি রেখে, চলেই গেলেন গেলেন কেষ্ট
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুরের সালালপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পণ্ডিত গত ৮ জুলাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর কাছে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেন মেহেমুদ খাঁন। ভয় ও চাপের মুখে তিনি ধাপে ধাপে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু তারপরও টাকা দাবি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মেমারি-তারকেশ্বর রোড ধরে বাড়ি ফেরার সময় সেলিমাবাদ এলাকায় তাঁর পথ আটকে দেয় মেহেমুদ খাঁন ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ, ওই দলে আজাপুর অঞ্চলের এক তৃণমূল নেতা প্রতাপ রক্ষিত-সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বজিৎ পণ্ডিতের দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে মেহেমুদ খাঁন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকা চাওয়া সত্ত্বেও তিনি তা দিচ্ছেন না। এরপর পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁর মাথায় ঠেকিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, এরপর তাঁকে মারধরও করা হয়। পথচারীরা ঘটনাস্থলে চলে আসায় অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
বিশ্বজিৎ পণ্ডিত আরও অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দু’দিন পর পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আরও ১ লক্ষ টাকা অভিযুক্তদের দেন। কিন্তু তাতেও তারা সন্তুষ্ট না হয়ে বাকি টাকা আদায়ের জন্য লাগাতার হুমকি দিতে থাকে। তাঁর দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতদিন থানায় অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
আরও পড়ুনঃ সুপার সাব ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন
এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। তাঁর অভিযোগ, মেহেমুদ খাঁন ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, দুর্নীতি এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মেহেমুদ খাঁনের সম্পত্তি ও আর্থিক উৎস নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত।
এদিকে, জামালপুরের এক মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেত্রী মীরাতাজ শেখও মেহেমুদ খাঁনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন রাতে পার্টি অফিস থেকে একাধিক ব্যাগ ভর্তি টাকা এবং জমির দলিল অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


