রথযাত্রার আগে পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে পালিত হয় বিশেষ আচার “নবযৌবন দর্শন”, যা জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ ভক্ত। ১৪ জুলাই, ২০২৬ স্নান পূর্ণিমায় ১০৮ কলস পবিত্র জলে মহাস্নানের পর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ১৫ দিন অনাসরে চলে যান—এই সময় তাঁরা সাধারণ দর্শনের বাইরে থাকেন।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গোপসাগরে এখনও সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত; বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে বৃষ্টির দাপট
অনাসর ও নবযৌবন দর্শনের তাৎপর্য:
- অনাসর: মহাস্নানের পর দেবদেবীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে বিশ্বাস, তাই ১৫ দিন মন্দিরের নির্দিষ্ট কক্ষে বিশ্রামে থাকেন।
- পরিচর্যা: দৈতাপতি সেবায়েতরা আয়ুর্বেদীয় প্রথায় দেবদেবীদের প্রতীকী চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন।
- নবযৌবন দর্শন: অনাসর শেষে প্রথম দর্শন যেখানে দেবদেবীরা নতুন ও সতেজ রূপে ভক্তদের সামনে হাজির হন। এটি বছরে একবারই হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার গার্লফ্রেন্ড চাই, বন্ধুরা খিল্লি করে’; ট্রেনের ছাদে সটান, হইচই শিয়ালদহে
নেত্রোৎসব ও অন্যান্য আচার:
- নবযৌবন দর্শনের আগে নেত্রোৎসবে কাঠের বিগ্রহগুলোর চোখ নতুন করে অঙ্কিত হয়, যা দেবদেবীদের দৃষ্টিশক্তির প্রতীকী পুনরুজ্জীবন হিসেবে বিবেচিত।
- অনাসর চলাকালীন সময় ভক্তরা পুরী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের ব্রহ্মগিরির আলারনাথ মন্দিরে যান, যেখানে ভগবান জগন্নাথ আলারনাথ রূপে দর্শন দেন বলে বিশ্বাস।
রথযাত্রার সূচনা:
- নবযৌবন দর্শনের পর ১৬ জুলাই তিনটি বিশাল কাঠের রথে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।
- প্রতিবছর নির্দিষ্ট কাঠ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তিনটি রথ নির্মাণ করা হয়, যা শতাব্দী ধরেই ঐতিহ্য রক্ষার অংশ।
নবযৌবন দর্শন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং রথযাত্রার প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং ভক্তদের জন্য এক বিরল ও পবিত্র অভিজ্ঞতা।


