কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন, যা তৃণমূলের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গতকালই কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন মদন মিত্র ও অনুব্রত মন্ডল। এবার তৃণমূলের এই দাপুটে অভিনেত্রী সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন। পদত্যাগের পরই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা নতুন রাজনৈতিক গুঞ্জনের উদ্রেক করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কি এবার কোয়েল মল্লিক বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাবেন?
আরও পড়ুনঃ পালাবদলের পর বাংলায় পরপর বিনিয়োগের বার্তা! Flipkart-এর সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ মুখ্যমন্ত্রীর
একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের মাঝে কোয়েলের এই পদত্যাগ দলের সংকটকে আরও গভীর করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট পরবর্তী সময়ে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিদ্রোহ ও দলত্যাগের মাঝে কোয়েলের আকস্মিক বিদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

রাজনীতিতে কোয়েল মল্লিকের পথচলা বেশ দীর্ঘ নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছিল। নিঃসন্দেহে এই মনোনয়ন রাজনীতিতে নতুন মুখ হিসেবে সকলের নজর কাড়েছিল। তবে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করেছে।
পদত্যাগের পরপরই তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, কোয়েল শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
কোয়েল মল্লিক কেন পদত্যাগ করলেন, সে বিষয়ে তিনি নিজে বা তৃণমূল থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজেপি যোগদানের গুঞ্জন নিয়েও তিনি নীরব। তবে এক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট আরও বাড়িয়েছে কোয়েলের এই পদক্ষেপ। এখন অপেক্ষা, টলিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে’ পদ্ম শিবিরে যোগ দেবেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক মোড় নেবেন—এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য।


