কলকাতা:
সুরের আকাশ থেকে খসে পড়ল আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ কিংবা ‘সোনা বন্ধু রে’-র মতো কালজয়ী মাটির সুরের জাদুতে যিনি বছরের পর বছর ধরে বাঙালি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন, সেই জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী স্বাগত দে (Swagata Dey) আর নেই। বুধবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫০ বছর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ বাংলা সঙ্গীতজগৎ ও তাঁর অগণিত অনুরাগী।
আরও পড়ুনঃ সক্কাল সক্কাল খারাপ খবর; সিলিন্ডার প্রতি ১৮ টাকা পর্যন্ত রান্নার গ্যাসের দাম
অসুস্থতা ও শেষ মুহূর্ত
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন শিল্পী:
-
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Cerebral Attack): কিছুদিন আগেই তিনি গুরুতর সেরিব্রাল অ্যাটাকের শিকার হন। হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন।
-
পরপর দুটি স্ট্রোক: সেই সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দু’দিন আগে হঠাৎই পুনরায় পরপর দুটি স্ট্রোক হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
-
ভেন্টিলেশন ও প্রয়াণ: মঙ্গলবার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখেন। অবশেষে বুধবার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো সুরলোকে পাড়ি দেন তিনি।
সঙ্গীতজগতের শোকবার্তা
স্বাগত দের অকালপ্রয়াণে বিনোদন ও সঙ্গীতজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমাজমাধ্যমে শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিকাতর বার্তা দিয়েছেন সহশিল্পীরা:
-
রাঘব চট্টোপাধ্যায়: সোশাল মিডিয়ায় প্রিয় বন্ধু ও সহশিল্পীকে স্মরণ করে লেখেন, “বিদায় স্বাগত। অসাধারণ এক শিল্পীকে অকালে হারালাম। অনেক ভালোবাসা।”

-
জোজো মুখোপাধ্যায়: শোকবার্তা জানিয়ে লেখেন, “তারাদের দেশে ভাল থেকো…।”

আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল মালদহের কালিয়াচক; ঝলসে গেল ৭ জন
বাংলা লোকসঙ্গীতে অবদান
মাটির মেঠো গন্ধ, পল্লী বাংলার গানকে শহরের আধুনিক মঞ্চ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দিতে স্বাগত দের অবদান অনন্য:
-
লোকগীতি ও পল্লীগীতিনির্বিশেষে আধুনিক বাংলা গানেও ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ যাতায়াত।
-
সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের সহজ-সরল জীবনের কথা তিনি নিজের দরদী গলায় ফুটিয়ে তুলতেন।
-
লোকসঙ্গীতের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মাটির গানকে ভালোবেসে সাধারণ মানুষের মনে নিজের স্থান করে নেওয়া এই শিল্পীর অকালপ্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি হলেও, তাঁর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গান ও সুর বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।


